গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
মায়ের ডাক, মেয়ের কান্না আর বাবার আত্মত্যাগে স্তব্ধ হয়ে গেল ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দীঘা পুলিয়াদি গ্রাম। বজ্রবৃষ্টি আর কালবৈশাখীর ভয়াল আঘাত শেষে, গ্রামের ছোট্ট এক বাড়িতে ঘটল এমন এক করুণ ট্র্যাজেডি, যা কেবল সিনেমার পর্দায় নয়, বাস্তবেও চোখে জল এনে দেয়।
গতকাল মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে কালবৈশাখী ঝড় থামার পরপরই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। এসএসসি পরীক্ষার্থী রিক্তা আক্তার (১৬) প্রতিদিনের মতো পানির মোটর চালাতে গিয়েছিল। কে জানত, একটি সুইচ অন করা তার জীবন বদলে দেবে! মোটরের সংযোগ দেওয়া তারের ত্রুটির কারণে ঘরের পাশের টিনের বেড়ায় ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক বৈদ্যুতিক শক। অসাবধান রিক্তাকে তা স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই শরীর বিদ্যুতে আটকে যায়।
রিক্তার এমন সংকটময় দৃশ্য দেখে তার মা আতঙ্কে চিৎকার করে উঠেন। সেই আর্তনাদ শুনে ছুটে আসেন পরিবারের অভিভাবক, পিতা মোঃ রতন মিয়া (৪৫)। মেয়েকে বাঁচানোর তাগিদে, ভালোবাসার তীব্র আকর্ষণে ঝাঁপ দেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য তার জন্য অপেক্ষায় রেখেছিল নির্মম পরিণতি। বিদ্যুতায়িত টিনের বেড়ায় লেগে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং সেখানেই থেমে যায় এক পিতার জীবন।
স্থানীয়রা জানান, মুহূর্তেই গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং রতন মিয়াকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু জীবনের লড়াই থামিয়ে দেন তিনি, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রতন মিয়ার এমন আত্মত্যাগী মৃত্যুতে পুরো এলাকা শোকস্তব্ধ। পরিবার হারাল অভিভাবক, আর গ্রাম হারাল এক সাহসী বাবাকে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, রতন মিয়া ছিলেন সদালাপী ও পরিশ্রমী মানুষ। জীবন দিয়ে মেয়েকে বাঁচানোর এই ভালোবাসার গল্প আজ তাদের মুখে মুখে।
বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঠিক নিরাপত্তা জ্ঞান এবং সাবধানতার অভাবে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কেবল একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
