আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বব্যাপী নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অর্জনকে উদযাপন করার দিন এটি। পাশাপাশি, নারীর অধিকার, সমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চলমান চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণেরও বিশেষ সুযোগ।
১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের একদল নারী শ্রমিক তাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে নারী দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এরপর ১৯১১ সালে প্রথমবারের মতো কয়েকটি দেশে নারী দিবস পালন শুরু হয়। ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নেতৃত্ব ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে নারীদের জন্য আইনগত সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশেও নারী উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সরকার ও বেসরকারি খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, নারীরা উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বের ভূমিকায় আসছেন।
তবে এখনো নারীরা বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। নারী নির্যাতন, বেতন বৈষম্য, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, বাল্যবিবাহ, শিক্ষায় বৈষম্যসহ নানা সমস্যা রয়ে গেছে। বিশেষ করে, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
জাতিসংঘ প্রতি বছর নারী দিবসে একটি বিশেষ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে। ২০২৪ সালের প্রতিপাদ্য “Invest in Women: Accelerate Progress” বা “নারীতে বিনিয়োগ, উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি”— যা নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়।
বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে র্যালি, আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদানসহ নানা আয়োজন রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো নারী উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরছে।
নারীর ক্ষমতায়ন শুধু নারী সমাজের উন্নয়ন নয়, বরং এটি একটি সমৃদ্ধ সমাজ ও দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত। এ দিবস উপলক্ষে প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো নারীর অধিকার, সমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতন থাকা এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
