তীব্র গরম কি সত্যিই বার্ধক্যের গতি বাড়ায়?

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বিশ্ব উষ্ণায়ন ও অস্বাভাবিক গরম আবহাওয়া এখন কেবল জলবায়ুর সমস্যা নয়, মানবস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম শরীরের কোষ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বার্ধক্য প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।গরম যেভাবে বার্ধক্য বাড়ায় –কোষ ক্ষয়: অতিরিক্ত তাপে শরীর ঘাম ও ডিহাইড্রেশনে ভুগে। এতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বেড়ে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রোটিন নষ্ট: উচ্চ তাপমাত্রা শরীরের প্রোটিন ভেঙে দেয়, ফলে টিস্যু দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।মাইটোকন্ড্রিয়ার দুর্বলতা: কোষের শক্তির উৎস মাইটোকন্ড্রিয়া তাপজনিত চাপের কারণে দুর্বল হয়, এতে শক্তি উৎপাদন কমে যায়।ইমিউন সিস্টেম দুর্বলতা: দীর্ঘ সময় গরমে থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়, সংক্রমণ ও প্রদাহ বাড়ে, যা বার্ধক্যের গতি বাড়ায়।

গবেষণার ফলাফল –প্রাণী গবেষণা: ইঁদুরের উপর করা এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, গরম পরিবেশে জন্মানো ইঁদুর তুলনায় কম দিন বেঁচে থাকে।মানবদেহে প্রভাব: দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার গরমপ্রবণ অঞ্চলে ডিহাইড্রেশন, কিডনি সমস্যা, ত্বকের আগাম ভাঁজ ও ক্লান্তি বেশি দেখা যায়। এগুলো বার্ধক্যের প্রাথমিক লক্ষণ।হিট স্ট্রেস ও এজিং জিন: তীব্র গরমে কিছু জিন (যেমন HSP জিন) অতিসক্রিয় হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করে।হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী বলেছেন, “অতিরিক্ত তাপে শরীর ক্রমাগত চাপের মধ্যে থাকে।

ফলে শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত বুড়ো হয়ে যায়।”বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, আমাদের অঞ্চলের অতিরিক্ত গরম বার্ধক্য ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে।গরম থেকে সুরক্ষার উপায় –দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না যাওয়া।পর্যাপ্ত পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট পান করা।হালকা, ঢিলেঢালা ও সুতির পোশাক পরা।ঘরের ভেতর গাছ, ফ্যান বা কুলার ব্যবহার করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা।অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার যেমন ফল, শাকসবজি, গ্রিন টি খাওয়া।

তীব্র গরম কেবল অস্বস্তি নয়, বরং নীরবে শরীরকে ভেতর থেকে বুড়ো করে তুলছে। তাই এই জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে গরম থেকে সুরক্ষা আর বিলাসিতা নয়, বরং জরুরি স্বাস্থ্য সুরক্ষা।