নিজস্ব প্রতিনিধি:
সরকারি চাকরিজীবীদের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্তদেরও উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী উচ্চতর গ্রেড পেতে আর কোনো বাধা রইলো না।মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টির ১৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। রিটকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইব্রাহিম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, আগে যারা টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন, তারা অনেকেই উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। কিন্তু এ রায়ের ফলে সেই বাধা কেটে গেছে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এখন থেকে এই সুবিধা পাবেন।
২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকা আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের আগের রায় সংশোধন করে এ সিদ্ধান্ত দেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান—দুয়েরই কর্মচারীরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন।এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে বলা হয়েছিল, একই পদে কর্মরত কেউ যদি দুটি টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পান, তাহলে তিনি আর উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। হাইকোর্ট এই পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চারটি আপিল ও আটটি ‘লিভ টু আপিল’ (আপিলের অনুমতির আবেদন) করে। এসব আবেদন নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে।রায়ের ফলে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী, চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে একবার এবং পরবর্তী ছয় বছর পর আরেকবার—দুইবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ এখন নিশ্চিত হলো।
জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫-র ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী:(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কেউ যদি একই পদে ১০ বছর চাকরি করেন এবং চাকরি সন্তোষজনক হয়, তাহলে ১১তম বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেড পাবেন।(২) অনুচ্ছেদ বলছে, এরপর আরও ছয় বছর চাকরি করলে এবং পদোন্নতি না পেলে, ৭ম বছরে আবারও উচ্চতর গ্রেড মিলবে।তবে (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়, এই সুযোগ ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য। ৪র্থ গ্রেডের ওপরে থাকা কর্মচারীরা তৃতীয় বা তদূর্ধ্ব গ্রেডে এই সুবিধা পাবেন না।(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কেউ যদি আগেই দুই বা ততোধিক টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকেন, তিনি আর এই সুবিধা পাবেন না।এই আইনি জটিলতার শুরু হয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্র দিয়ে, যার (গ) অনুচ্ছেদে উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা সীমিত করা হয়। এরপর কয়েকজন সরকারি চাকরিজীবী এর বিরুদ্ধে রিট করেন।
২০১৭ সালে হাইকোর্ট এই পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে।আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র দিয়ে মূল জাতীয় বেতন কাঠামো পরিবর্তন করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে আদালত সঠিকভাবেই পরিপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এই রায়ের ফলে যারা ২০১৫ সালের আগে একটি টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়েছিলেন, তারা এখন দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পেতে আইনগত বাধা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন।এ রায় বাস্তবায়ন হলে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে লক্ষাধিক চাকরিজীবী উপকৃত হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।—আপনি চাইলে এই লেখাটি সংক্ষিপ্ত বা আরও সহজভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।
