নিজস্ব প্রতিনিধি:
মোবাইল আর্থিক সেবা ‘নগদ’-এর স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সরকার এর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে। একই সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মুতাসিম বিল্লাকে প্রতিষ্ঠানটির নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
নতুন বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়েছেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। এছাড়াও বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা হলেন:
- ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
- আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যুগ্ম সচিব
- বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের পরিচালক
- বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেটরি অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের পরিচালক
- এআইইউবি-এর পরিচালক খন্দকার সাব্বির মোহাম্মদ কবির
- সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিম হোসাইন শাওন
- দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন
- বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম বাররু সানি
অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ
সরকার পতনের পর গত বছরের ৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার নগদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে তদন্তে দেখা যায়, ভুয়া পরিবেশক ও এজেন্ট দেখিয়ে অর্থ জালিয়াতি এবং অতিরিক্ত ই-মানি তৈরির মাধ্যমে নগদের হিসাবে ২ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি ভাতা বিতরণ ও গ্রাহক তৈরি করা হয়েছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ডাক বিভাগের আটজন সাবেক ও বর্তমান মহাপরিচালক, নগদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সিইও সহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।
আইনি জটিলতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
নগদে প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে করা একটি রিট হাইকোর্ট খারিজ করলেও পরবর্তীতে সেই আদেশ স্থগিত হয়। গত ৭ মে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর নগদের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেন এবং মামলার আসামি মো. সাফায়েত আলমকে সিইও হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক ২১ আগস্টের প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত স্থগিতাদেশ আংশিক প্রত্যাহারের আবেদন করে, যা আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। গত ২ জুন আপিল বিভাগ নগদে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিতের আদেশ স্থগিত করে রায় দেন। এই রায়ের ফলেই নতুন বোর্ড গঠন এবং সিইও নিয়োগের পথ সুগম হলো।