বেসরকারি ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন আন্দোলনের পর অবশেষে বদলির নীতিমালা পেয়েছেন, যা শিক্ষক সমাজে আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে। তারা এখন বদলির আবেদন শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে বদলির কার্যক্রম শুরু হবে আগামী বছরের সেপ্টেম্বর থেকে।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের স্বাক্ষরিত এই নীতিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়। এতে বদলির জন্য নির্দিষ্ট শর্ত এবং প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বদলির জন্য শর্তাবলি
১. সর্বনিম্ন দুই বছরের চাকরি: যোগদানের পর দুই বছর পূর্ণ না হলে কোনো শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন না।
২. সীমিত বদলির সুযোগ: একজন শিক্ষক চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ দুইবার বদলির সুযোগ পাবেন। তবে নারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা তিনবার।
৩. দুই বদলির মধ্যে বিরতি: প্রথমবার বদলির পর পরবর্তী বদলির জন্য দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে।
৪. সফটওয়্যার নির্ভর প্রক্রিয়া: পুরো বদলির প্রক্রিয়া সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এতে তদবির বা কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সুযোগ থাকবে না।
বদলির সময়সূচি
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শূন্যপদের তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।
আবেদন সময়সীমা: ১ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
আদেশ জারি: ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বদলির আদেশ দেওয়া হবে।
যোগদান: ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান নিশ্চিত করতে হবে।
জ্যেষ্ঠতা ও অগ্রাধিকার
বদলির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জ্যেষ্ঠতা গণনা করা হবে চাকরিতে প্রথম যোগদানের তারিখ থেকে।
একাধিক আবেদন পাওয়ার ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, নারী শিক্ষক এবং শিক্ষকের বাড়ি থেকে কর্মস্থলের দূরত্ব বিবেচনায় বদলি অনুমোদন দেওয়া হবে।
বদলির প্রক্রিয়া
বদলির পুরো কার্যক্রম মাউশির তৈরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
বদলির পর শিক্ষকের ইনডেক্স ও আর্থিক সুবিধাদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর হবে।
বদলিকৃত শিক্ষকরা টিএ/ডিএ ভাতা পাবেন না।
অবমুক্তি ও যোগদান
বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে অবমুক্ত হতে হবে। এরপর ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান সম্পন্ন করতে হবে।
যোগদানের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনলাইনে জানাতে হবে।
অবমুক্তি থেকে যোগদানের সময়টি চাকরিকাল হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বদলির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
