তরুণদের সঠিক পেশা বেছে নিতে অনলাইনে নতুন উদ্যোগ।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ইংল্যান্ডে তরুণদের ভবিষ্যৎ পেশা নির্ধারণে সহায়তা দিতে চালু হয়েছে নতুন এক অনলাইন টুল। শিক্ষার্থীরা এই প্ল্যাটফর্মে নিজেদের আগ্রহ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা যুক্ত করে ভবিষ্যতের উপযোগী ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার দিকনির্দেশনা পাচ্ছে।

বাংলাদেশে তরুণদের চাকরির বাজারে প্রবেশের আগে পেশা বেছে নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ করেও অনেক শিক্ষার্থী জানে না কোন পেশা তাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এই সমস্যার সমাধানেই ইংল্যান্ডের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান চালু করেছে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এটি শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল তৈরি করে তাদের আগ্রহ, অভিজ্ঞতা ও অর্জনের ভিত্তিতে উপযুক্ত পেশার পরামর্শ দেবে।

১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি এই টুলে থাকবে ব্যক্তিগত অনলাইন প্রোফাইল। সেখানে তারা নিজেদের আগ্রহ, অভিজ্ঞতা ও অর্জনগুলো উল্লেখ করতে পারবে। ফলে তারা আগে থেকেই জানতে পারবে ভবিষ্যতে কোন খাতে কাজ করতে চায় বা কোন বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানো দরকার।

ডেভন কাউন্টি কাউন্সিল জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সব শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগে পেশাসংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া। সংস্থার জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকর্তা ডেবি স্ট্যাফোর্ড বলেন, “জাতীয় শিক্ষাক্রমে ক্যারিয়ার পরামর্শ না থাকায় স্কুলভেদে বৈষম্য তৈরি হয়। কোথাও মানসম্মত পরামর্শ দেওয়া হয়, আবার কোথাও সময়ও দেওয়া হয় না। এতে কিছু শিক্ষার্থী অন্যদের তুলনায় বেশি সুবিধা পায়।”

তিনি আরও বলেন, “ভোকেশনাল প্রোফাইল বহুদিন ধরেই কার্যকর একটি পদ্ধতি। একজন শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও সাফল্য জানা গেলে সহজেই বোঝা যায় ভবিষ্যতে কোন ধরণের কাজ তার জন্য উপযুক্ত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।”

ডেভনের স্কুলগুলোয় টুলটি চালুর সময় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ওপর। কাউন্সিল জানিয়েছে, এই টুল সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে। স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী লুসি বলেন, “আমরা অনেক সময় জানি না ভবিষ্যতে কী করতে চাই। অনলাইনে নিজের আগ্রহ লিখে রাখলে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হবে।”

বাংলাদেশে এখনো মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ক্যারিয়ার পরামর্শ ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জনের পরও বুঝতে পারে না কোন পেশা তাদের সক্ষমতা ও আগ্রহের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানানসই। তাই এই ধরনের ডিজিটাল টুল বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সহায়ক হতে পারে।