নিখোঁজের পর মিলল অপ্রতীমের মরদেহ, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।

লেখক: এমরানূর রেজা
প্রকাশ: ২৩ ঘন্টা আগে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতীমের নিখোঁজের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছিল। নিখোঁজের পর বিভিন্নজনের সহায়তা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদন করেছিলেন অপ্রতীমের মা।

পরে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে শোক নেমে আসে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে।অপ্রতীম সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে বের হয়েছিল সে। মায়ের দেওয়া তথ্যমতে, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে তার আইফোন নিয়ে বের হলেও পরে আর বাড়ি ফেরেনি। তার ব্যবহৃত ফোনের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। অপ্রতীমের নিখোঁজের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাকে খুঁজে পেতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

মরদেহ উদ্ধারের পর একই মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে গভীর শোক, ক্ষোভ এবং শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।লেখক নিপা জাহান লিখেছেন, “বাচ্চাটাকে পাওয়া গেছে। তবে জীবিত নয়।” অপ্রতীমের মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আর কোনো অপ্রতীমকে হারাতে চান না। মিজানুর রহমান জনি অপ্রতীমের মরদেহের ছবি ও ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তবে তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা নিখোঁজ শিশুদের সংখ্যাসহ বিভিন্ন দাবির স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। লেখক মোজাফফর হোসেন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় শিশুদের নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি যৌন সহিংসতা, মাদক, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বৃহত্তর সামাজিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন। তাঁর ভাষায়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল হলে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয় নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের সন্তানরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। স্বপ্না রেজা অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন—বন্ধুদের সঙ্গে বের হওয়ার পর তার কী হয়েছিল, এবং তার পরিচিত কেউ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল কি না।

তবে এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।অপ্রতীমের মৃত্যু ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়াগুলোতে একটি বিষয় স্পষ্ট—শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও অনুমান যাচাই না করে প্রচার না করার বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। অপ্রতীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে— এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানো অনেকে।একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়া থেকে মরদেহ উদ্ধারের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—শিশুদের নিরাপত্তা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়; এটি সমাজ ও রাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।