হাতিয়ার উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে অনুপ্রেরণার নাম: ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী।

লেখক: রিয়াজুল ইসলাম
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:

হাতিয়া—বাংলাদেশের দক্ষিণের এক উপকূলীয় উপজেলা, যেখানে উন্নয়নের স্বপ্ন আজও অনেকাংশে অপূর্ণ। এই বাস্তবতায় এক সাহসী নারী, ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হাতিয়ার জনগণের কাছে হয়ে উঠছেন এক আশার প্রতীক।ফৌজিয়া সাফদার সোহেলীর রাজনীতিতে আগমন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। তিনি বেড়ে উঠেছেন এক ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে। দাদা মরহুম আলহাজ্ব আজহার উদ্দিন আহাম্মদ মিয়া ছিলেন হাতিয়ার জনকল্যাণ ও গণমানুষের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নাম। তার সমাজসেবামূলক কর্ম, ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসই তরুণী ফৌজিয়ার রাজনৈতিক চেতনার সূচনা ঘটায়।তিনি বলেন, “দাদা, বাবা ও চাচাদের জীবন সংগ্রাম, মানুষের পাশে থাকা আর উন্নয়নের কাজ—এই তিনটি বিষয়ই আমার জীবনের অনুপ্রেরণা।”বিশেষ করে তার পিতা ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী একজন রাজনৈতিক কর্মী। তার বাবার নেতৃত্বে স্থানীয় উন্নয়নের বাস্তব উদাহরণ—জব্বারিয়া খাল খনন প্রকল্প, যা এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় এনে দেয় বড় পরিবর্তন।

ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী বিশ্বাস করেন, রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার পথ।তিনি বলেন,হাতিয়ার মানুষকে দীর্ঘদিন অবহেলা করা হয়েছে। আমার লক্ষ্য উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা।তার উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—নৌ-যান ব্যবস্থার আধুনিকীকরণপ্রতিটি ইউনিয়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাক্ষুদ্রঋণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিনদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নতিনি তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচিকে হাতিয়ার উন্নয়নের রূপরেখা হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যা জাতীয় উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যাগুলোরও কার্যকর সমাধান দিতে পারে বলে মনে করেন।একজন নারী রাজনীতিক হিসেবে ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী জানেন, নারীদের রাজনীতিতে আসা সহজ নয়। প্রতিনিয়ত তাকে লড়তে হয় সামাজিক বাঁধা, সমালোচনা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সঙ্গে।তবুও তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,নারী উন্নয়ন ছাড়া সমাজ উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমি চাই নারীরা রাজনীতিতে আসুক, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিক, নিজেদের শক্তি ও আত্মবিশ্বাসে দেশ গড়ুক।

তিনি স্থানীয় নারীদের প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।ফৌজিয়া সাফদার সোহেলীর রাজনীতি কেবল অতীতনির্ভর নয়, বরং ভবিষ্যতমুখী। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন,দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য সততা ও আদর্শের মাধ্যমে তরুণদের রাজনীতিতে আসা জরুরি। যুবশক্তিকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, হাতিয়া হবে উপকূলের সেরা উপজেলা।তিনি যুবসমাজের জন্য রাজনৈতিক শিক্ষা, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ এবং দেশপ্রেমিক চেতনা বৃদ্ধির কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।তার প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রয়েছে—হাতিয়া-ম mainland সংযোগে নিরাপদ ফেরি ও সী-ট্রাক সার্ভিসআধুনিক হাসপাতাল ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রমানসম্মত স্কুল ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রনদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণএই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে হাতিয়ার সামগ্রিক উন্নয়ন এক নতুন দিগন্তে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা করেন।রাজনৈতিক জীবনে নানা সমালোচনা ও বাধার মুখোমুখি হয়েছেন ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী। কিন্তু তিনি এসবকে ভয় না পেয়ে বলেছেন,সমালোচনা আমাকে থামাতে পারে না। বরং গঠনমূলক সমালোচনা আমাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

এটা আমাকে শেখায়—কোথায় উন্নতি করতে হবে, কীভাবে আরও ভালোভাবে জনগণের পাশে দাঁড়ানো যায়।বর্তমানে তিনি মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন—মহল্লা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে। তিনি নারী ও তরুণদের যুক্ত করছেন, জনগণের সমস্যা শুনছেন এবং তা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরছেন।ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী বিশ্বাস করেন—হাতিয়ার উন্নয়ন মানে উপকূলের উন্নয়ন, আর উপকূলের উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশের অগ্রগতি।ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী কেবল একজন নারী রাজনীতিক নন—তিনি হাতিয়ার উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন ও তরুণ নেতৃত্বের এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। তারেক রহমানের ৩১ দফাকে সামনে রেখে তিনি যে রোডম্যাপ তৈরি করেছেন, তা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে হাতিয়া হবে উপকূলীয় বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।