ডেস্ক রিপোর্টঃ
বাংলাদেশের অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা ঘুষ ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। এর ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠে এসেছে।
গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুষ, লুটপাট করে। যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠে এসেছে। অন্যায়, অবিচারের বিচার সব দেশেই জনগণের চাওয়া ছাড়াই হয়। বাংলাদেশে দিন-রাত ও বছরের পর বছর কান্নাকাটি করেও এ অপরাধের কোনো বিচার হয় না।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগনেতা, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী দেশকে সর্বনাশ করে দিয়ে গেছে লুটপাট করে। যেই অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন এই ১৫-১৬ বছরে তারা করেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে কখনও এরকম করেনি। বাংলাদেশের কোষাগার লুণ্ঠন করেছে, যা কিছু বিদেশি সাহায্য আসে সবকিছু চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে পর্যন্ত টাকা চুরি করে ফিলিপাইনে নিয়ে গিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, ফিলিপাইনে যারা এর সঙ্গে জড়িত, তারা এখন সব জেলে আছে, কিন্তু বাংলাদেশের কারও কোনো বিচার হয়নি। এজন্যই আল্লাহর গজব তাদের ওপর আছে।
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন বলেন, এখন ভারতে বসে বসে হুংকার দেয় ডিসেম্বরে আসবে, জানুয়ারিতে আসবে। আসুক না, দেখি বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে কীভাবে গ্রহণ করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, সততার মূল্য অপরিসীম। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কবে মারা গেছেন, কিন্তু আজও মানুষ তাকে কত সম্মান করে।
স্পিকার বলেন, বিএনপি বারবার ক্ষমতায় এসেছে। জিয়াউর রহমানের করে যাওয়া ভালো কাজের কারণেই মানুষ বারবার বিএনপিকে ভোট দেয়। তিনি ৪-৫ বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন, কিন্তু মৃত্যুর পর দেখা গেল তার কোনো জমি নাই। ব্যাংকে কোনো টাকা নাই। তার চার ভাই জীবিত ছিলেন, কেউ নামও জানে না তাদের। সততা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। মুসলিম বিশ্বে এ ধরনের শাসক ইদানিং দেখা যায় না। খোলাফায়ে রাশেদিনের পর তিনিই হলেন প্রকৃত শাসক। তিনি জননন্দিত। জনকল্যাণে সারা জীবন কাজ করেছেন, বিএনপি তারই দল।
সমাবেশে তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু প্রমুখ। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
