নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে গত সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। তবে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে।দুর্ঘটনার পরদিন, মঙ্গলবার, নিহতদের সঠিক পরিচয়সহ ছয় দফা দাবিতে দিনভর আন্দোলন করেছে মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। পরে সরকার শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেয়। দুর্ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীদের স্কুল চত্বরে প্রবেশ করতে দেয়নি।
মঙ্গলবার সকাল থেকে নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল করা হয়। তখন অনেক অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ বিধ্বস্ত ভবনের সামনে ভিড় করেন।(তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা)সে সময় সিআইডির একটি দল ভবনের বিভিন্ন কক্ষ থেকে আলামত সংগ্রহ করছিল এবং বিমানবাহিনীর সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দুপুর বারোটার দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সরে গেলে মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের স্বেচ্ছাসেবকরা ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে।দ্বিতল ভবনটির যে অংশে বিমানটি আছড়ে পড়ে সেটি ছিল নিচতলার পাশ ঘেঁষে। নিচ থেকে উপরের দিকে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যায় যুদ্ধবিমানটি।শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ভবনে তৃতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণির ক্লাস চলত, যেখানে ১০ থেকে ১২টি শ্রেণিকক্ষ ছিল। প্রতিটি কক্ষে গড়ে ৩০ জন করে শিক্ষার্থী থাকত।বিধ্বস্তের সময়টি ছিল টিফিন বিরতির মধ্যেই। কেউ কেউ তখন স্কুল থেকে বের হয়ে বাসার পথে রওনা দিয়েছিলেন, আবার কেউ টিফিন শেষ করে ক্লাসরুমে ফিরছিলেন।স্কুলের একজন প্রভাষক মো. রেজাউল হক জানান, “প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী ছিল। দোতলায় যারা ছিল তাদের অনেককেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু নিচতলায় যারা ছিল তারা অনেকেই দগ্ধ হয়েছেন।”তিনি আরও বলেন, বিমানটি ভবনের একদম মাঝ বরাবর নিচের দিকে আঘাত করেছে, যার ফলে নিচতলার দুটি পাশের কক্ষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।তার ভাষ্যমতে, ভবনের দুই তলায় মিলিয়ে ২০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
এর মধ্যে শুধু নিচতলায়ই ছিল প্রায় ১০০-১২০ জন। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নিচতলার শিক্ষার্থীদের মধ্যেই।তিনি আরও বলেন, “যেহেতু ওই সময়টি টিফিন বিরতির ছিল, তাই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমবেশি হতে পারে। তবে ক্লাস চলার সময় হলে এই সংখ্যাটি ২০০ থেকে ২২০ হতে পারত।”এখনও পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আহত ও নিহতদের সঠিক সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।মঙ্গলবার স্কুল চত্বরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, আহত ও নিহতদের সঠিক সংখ্যা দ্রুত প্রকাশ করার জন্য।
