শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের ক্ষমা চাওয়া উচিত : হাসনাত

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, রাস্তায় শিক্ষকদের ওপর যে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে, তা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের চরিত্র হতে পারে না। তিনি বলেন, “এই হীন কাজের জন্য সরকারকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে। আর যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের সূর্য ডোবার আগেই মুক্তি দিতে হবে।”রোববার (১২ অক্টোবর) বিকেলে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের ওপর হামলার পর শহিদ মিনারে সংহতি জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আরও বলেন, “শিক্ষকরা সমাজে সম্মানের প্রতীক। তাদের সব সময় পরিপাটি ও পরিমিত জীবনযাপন করতে হয়। অথচ তাদের মাসিক বেতন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে মাসের শেষ ১০ দিন হীনমন্যতা নিয়ে চলতে হয়।”তিনি বলেন, “বিদেশে শিক্ষা খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সবার খাওয়া-দাওয়া শেষে যা বাঁচে, সেটাই শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ।

শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন না দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার আশা করা আসলে রাষ্ট্রীয় প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।”সরকারের উপদেষ্টা ও আমলাদের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “নিজেরা আমেরিকায় যান রুটিন চেকআপ করাতে, সিঙ্গাপুরে যান স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে—আর শিক্ষকদের দেন ৫০০ টাকা। এই রাষ্ট্রীয় ভণ্ডামি আমরা মানি না।”এনসিপি নেতা আরও বলেন, “এই সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা হলেন প্রমোশন বান্ধব। সরকারের মূল কাজই হচ্ছে পোস্টিং দেওয়া। যারা হাসিনার আমলে রাস্তায় নেমে টাকার বিনিময়ে স্লোগান দিয়েছে, তারাই এখন পদায়ন পাচ্ছে।

”সংহতি জানিয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, “একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষকদের মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে আটকে রাখতে চায়। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা—সব কিছুই তাদের নিজের পকেট থেকে দিতে হয়। আন্দোলনের পর এমন বাস্তবতা মেনে নেওয়া কষ্টকর।”এসময় সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, যুগ্ম সদস্যসচিব (শিক্ষা ও গবেষণা) ফয়সাল মাহমুদ এবং গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের সদস্যসচিব জাহিদ আহসান প্রমুখ।