মিরসরাইয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড বিভিন্ন এলাকা।

লেখক: বাচ্চু পাটোয়ারী
প্রকাশ: ১ বছর আগে

মিরসরাই,চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

মিরসরাইয়ে মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন জনপদ। সোমবার (২১ এপ্রিল) ভোরে শুরু হওয়া এই ঝড়ে ইছাখালী, মঘাদিয়া, হাসিমনগর, বানাতলী, আবুতোরাব বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভেঙে পড়ে সিমেন্ট ও কাঠের তৈরি অন্তত ২৫টি বিদ্যুতের খুঁটি, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ। চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ না থাকায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে।ঝড়ের তাণ্ডবে অর্ধশতাধিক বসতঘর, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ইছাখালী ও মঘাদিয়া ইউনিয়নের হাসিমনগর এলাকায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। হাসিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে তারেক স্টোর নামক একটি দোকানে গাছ পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা।উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ইছাখালী ইউনিয়নের চরশরত উচ্চ বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি উড়ে যাওয়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। চরশরত আবাসন প্রকল্পের বেশকিছু ঘরের ছাউনিও উড়ে গেছে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা, গাছ পড়ে কৃষক ওহিদুর রহমানের একটি গরু মারা গেছে।মঘাদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শাকিল খান বলেন, “ঝড়ে আমাদের গ্রামের অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছ পড়ে রাস্তাঘাটে চলাচলের সমস্যা হচ্ছে।”অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, “ঝড়ে আমার ঘরের ছাউনি উড়ে গেছে, আমি এখন খোলা আকাশের নিচে।মঘাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, “স্বল্প সময়ের ঝড়েই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।”
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর মিরসরাই জোনাল অফিসের ডিজিএম আদনান আহম্মদ চৌধুরী জানান, “সোমবার ভোরের ঝড়ে আমাদের জোনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ১৩টি বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে পড়ে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনও বন্ধ রয়েছে।”
একই বিভাগের বারইয়ারহাট জোনাল অফিসের ডিজিএম হেদায়েত উল্ল্যাহ বলেন, “বারইয়ারহাট জোনের আওতায় আরও ১২টি বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে গেছে। সোমবার সন্ধ্যার পর কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা গেলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় লাগবে।”
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজা জেরিন বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আবেদন করলে সহায়তা প্রদান করা হবে। বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।”