পারদের বার্তায়, শীতের আগমন।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

আবহাওয়া ডেস্ক:

পারদের রেখা নামছে, ভোরের শিশিরে লেখা শীতের বার্তাভোরের আলোয় ঘাসের ডগায় ঝুলে থাকা শিশির বিন্দু শীতের আগমন সুস্পষ্টভাবে জানাচ্ছে। বাতাসে এখন এক অচেনা ঠান্ডা ছোঁয়া, যেন প্রকৃতি ধীরে ধীরে শরতের উষ্ণ চাদর সরিয়ে শীতের কোমল স্পর্শ উপস্থাপন করছে। দিনের আলো এখনও তেজ ধরে রেখেছে, তবে রাতের নীরবতায় ঠান্ডার স্পর্শ সহজেই টের পাওয়া যাচ্ছে।দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তেঁতুলিয়ায় মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকালে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের ১৬.৫ ডিগ্রির তুলনায় প্রায় দুই ডিগ্রি কম।

এক দিনের ব্যবধানেই এই পতন ইঙ্গিত দিচ্ছে—শীত এখন শুধু সময়ের অপেক্ষায়।দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা ছেয়ে রাখছে চারপাশ। গ্রামের মাঠ হোক বা শহরের ব্যস্ত রাস্তা, সবই যেন সাদা কুয়াশার চাদরে মোড়া। কুয়াশার মধ্য দিয়ে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন, যেন বাস্তব ও কল্পনার মিশ্রণ দৃশ্য।আবহাওয়াবিদদের মতে, তাপমাত্রা ক্রমেই নেমে যাচ্ছে। নভেম্বরের শেষ দিকে দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ডিসেম্বরজুড়েও একাধিক শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান যখন ১০ ডিগ্রি বা তার কম হয়, তখন শীতের অনুভূতি আরও বেড়ে যায়।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন—দিনের তাপমাত্রা যদি ২৬ ডিগ্রি হয় এবং রাতের তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি বা তার নিচে নেমে আসে, তবে বলা যায়, শীত আসছে। অর্থাৎ দিনের সঙ্গে রাতের এই তাপমাত্রার পার্থক্যই প্রকৃতিতে শীতের বার্তা পৌঁছে দেয়।তিনি আরও বলেন, সাধারণত মধ্য নভেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীতের প্রভাব দেখা দিতে শুরু করে। তাই নভেম্বরের ১৫ তারিখ নাগাদ দেশের বহু জায়গায় শীতের ছোঁয়া অনুভূত হবে। তবে রাজধানী ঢাকায় শীতের প্রভাব পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।আগামী কয়েক দিনে বাতাসের গতি বাড়লে ঠান্ডার অনুভূতিও আরও তীব্র হতে পারে। সূর্যের কিরণকাল কমলে, অর্থাৎ দিন ছোট হতে থাকলে, প্রকৃতি ধীরে ধীরে আরও শীতল হয়ে উঠবে—শীত যেন তার পদচিহ্ন রেখে যাবে মাঠে, ঘাসে এবং মানুষের হৃদয়ে।