চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডাব, মাল্টার দাম।

লেখক: Tushar Imran
প্রকাশ: ১৪ ঘন্টা আগে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

ডেঙ্গু আক্রান্ত পাঁচ বছরের শিশুকে ডাবের পানি খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। ছেলের জন্য ডাব কিনতে গিয়ে দিনমজুর রমিজ উদ্দিনের চোখ কপালে উঠে যায়। দোকানি একটি বড় ডাবের দাম চেয়েছেন ২০০ টাকা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে কয়েকটি দোকানে ঘুরেও ডাব কিনতে পারেননি সীতাকুণ্ডের এই বাসিন্দা। একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন মো. সুমন। ডেঙ্গু আক্রান্ত বৃদ্ধ বাবার জন্য মাল্টা কিনতে গিয়ে তাঁকে প্রতি কেজির জন্য গুনতে হয়েছে ৫০০ টাকা। তাদের মতো অনেক রোগীর স্বজনকে এখন ডেঙ্গুর চিকিৎসার পাশাপাশি বাড়তি দামে ডাব ও মাল্টা কিনতে হচ্ছে।

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত ডাব ও মাল্টার দামও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহে বড় কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ডাবের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।মাল্টার দামও বেড়েছে কেজিতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।দিনমজুর রমিজ উদ্দিন বলেন, তাঁর সন্তানের ডেঙ্গু জ্বর। তার চিকিৎসা নিয়ে পুরো পরিবার দিশেহারা। চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছেন, তাকে ডাবের পানি দিতে। এতে তার শারীরিক দুর্বলতা কাটবে। কিন্তু ডাবের দাম চড়া। তিনি গরিব মানুষ। ২০০ টাকা দিয়ে একটি ডাব কিনে তাঁর সন্তানকে খাওয়াবেন কী করে?

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে ছোট আকারের একটি ডাব ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং বড় ডাব ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন ছোট ডাবের দাম ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং বড় ডাবের দাম ২০০ থেকে ২২০ টাকা। একই সময়ে প্রতি কেজি মাল্টা ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৫০০ টাকার বেশি।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি মাল্টার গড় আমদানি মূল্য প্রায় ৮৮ টাকা। শুল্ক-করসহ বন্দর থেকে খালাসের সময় এর দাম পড়ে ১৯৬ টাকার কিছু বেশি। এরপর কয়েক ধাপ হাতবদলের পর সেই মাল্টাই ভোক্তার কাছে ৫০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।চট্টগ্রামে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, টেকনাফ, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাব আসে। ফিরিঙ্গী বাজার, মাঝিরঘাট, চাক্তাই, অক্সিজেন, রেয়াজউদ্দিন বাজার ও কালুরঘাটে এগুলো পাইকারি ও খুচরা বিক্রি হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ ট্রাক ডাব চট্টগ্রামে আসে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও হাতবদলের সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ছে।স্থানীয়ভাবে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় কেনা একটি ডাব পাইকারিতে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়। খুচরা পর্যায়ে এসে একই ডাবের দাম বেড়ে ২০০ টাকার বেশি হচ্ছে।ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সঙ্গে জড়িত। হাসপাতালগুলোর আশপাশের দোকানগুলোতে এ ধরনের অনিয়ম বেশি দেখা যাচ্ছে।চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, ডেঙ্গু রোগীর পানিশূন্যতা দূর করতে ডাবের পানি কার্যকর। মাল্টায় ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এএসএম লুৎফুল কবির শিমুল বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় অনেককে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। শারীরিক দুর্বলতা ও প্লাটিলেট কমে যাওয়ার কারণে রোগীদের তরল ও পুষ্টিকর খাবার দিতে বলা হচ্ছে।ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, ডেঙ্গু রোগীর বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কিছু ব্যবসায়ী ডাব ও মাল্টার দাম বাড়িয়েছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম তিন দিনে আড়াই শতাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বশেষ গতকাল শনিবার এক দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ১০৮ জন। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন চার হাজার ৭১৩ জন এবং মারা গেছেন ২১ জন।