কিছু শক্তি নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে: প্রধান উপদেষ্টা।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে তিনি জানান, কিছু মহল এখনো নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সরকার নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজন করবে বলে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি।বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য মুনির সাতোরির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

তিনি প্রতিনিধিদলকে জানান, নির্বাচনের সময়সূচি ইতোমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে, রমজানের ঠিক আগে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জনগণ বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে নির্বাচনী উদ্দীপনা বেড়েছে। দীর্ঘদিন পর—কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দশকেরও বেশি সময় পর—ছাত্র সংসদ নির্বাচন শুরু হওয়ায় তরুণরা আরও উৎসাহিত হয়েছে।তিনি আশ্বস্ত করেন, জাতীয় নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর।

কিছু মহল নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করলেও সরকার সময়মতো ভোট আয়োজন করতে বদ্ধপরিকর।প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, এবার তরুণ ভোটাররা রেকর্ড সংখ্যায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে, কারণ অনেকেই ১৫ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবার ভোট দেবে। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, যা জাতির ইতিহাসে নতুন যাত্রা হিসেবে চিহ্নিত হবে।এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ও ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরে ইইউর সমর্থন এবং রোহিঙ্গা মানবিক সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।

ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মুহূর্ত হবে। একজন আইনপ্রণেতা প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর সরকারের গত ১৪ মাসের ‘অসাধারণ’ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।একজন ডাচ আইনপ্রণেতা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের কয়েকটি দেশের মধ্যে অন্যতম যেখানে ‘ঘটনাগুলো সঠিক পথে এগোচ্ছে।’প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবিচল সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং বাংলাদেশের এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য বাড়তি তহবিল প্রদানের আহ্বান জানান।

বিশেষ করে বাজেট সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের স্কুলগুলো পুনরায় চালু করতে সহায়তার অনুরোধ জানান তিনি।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ শ্রম সংস্কারগুলোর কথা তুলে ধরে বলেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে।