‘ঐক্যমতের নামে জনগণকে প্রতারণা করছে কিছু দল’

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

নাহিদ ইসলামজাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আজ জাতীয় শ্রমিক শক্তি আত্মপ্রকাশ করছে এবং রাজপথে তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। অথচ একই দিনে কিছু রাজনৈতিক দল জাতীয় ঐক্যের নামে জনগণকে প্রতারণা করে কেবল কাগজে সই করছে।”শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বাংলামোটরের ইস্কাটন নেভি কলোনিতে ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা জানি, রাজপথের শক্তিই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়। ইনশা আল্লাহ, জাতীয় শ্রমিক শক্তিও জয়ী হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি শ্রমিকদের পক্ষে রাজনীতি করবে— তাদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়বে।

”তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে এখনো শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায়ে লড়াই করতে হচ্ছে। গার্মেন্টসে, বস্তিতে, কলকারখানায় বারবার আগুন লাগছে। শ্রমিক মারা গেলে দুই-তিন লাখ টাকায় জীবনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়— এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। শ্রমিকের জীবনকে কেবল অর্থনৈতিক শোষণের অংশ হিসেবে দেখলে চলবে না। দেশে যে লুটপাট ও দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দিকে যেতে হবে।”নাহিদ বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য মানেই জাতীয় ঐক্য নয়। প্রকৃত জাতীয় ঐক্য তখনই হয়, যখন দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ দেশপ্রেমের ভিত্তিতে একত্রিত হয়ে লড়াই করে।

আমরা সেটা দেখেছিলাম জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে— যেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানার ছিল না, ছিল কেবল ছাত্র, শ্রমিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের ঐক্য। আমরা সেই জাতীয় ঐক্যের পথেই এগোচ্ছি, যেখানে ছাত্র ও শ্রমিক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করবে।”তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একাধিক কমিশন গঠিত হলেও শ্রম কমিশন বা স্বাস্থ্য কমিশন নিয়ে কোনো আলোচনা দেখা যায়নি। মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিয়েও কোনো কথা নেই। বরং শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক ছয়টি সংস্কার কমিশন নিয়েই ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়েছে।

সেখানেও গণতন্ত্রের জন্য কোনো ইতিবাচক দিক দেখা যাচ্ছে না।”অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঘোষণা করেন। সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাজহারুল ইসলাম ফকির, সদস্যসচিব শ্রমিকনেতা রিয়াজ মোর্শেদ, এবং মুখ্য সংগঠক শ্রমিক নেতা আরমান হোসেন।