এই বয়সে সেফ এক্সিট নিয়ে ভাবতে হলে তা হবে সত্যিই দুঃখজনক।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রেলপথ ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, “শিক্ষকতার সুবাদে জীবনের বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের স্থায়ী নাগরিক হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন যদি ৭২ বছর বয়সে ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে ভাবতে হয়, তবে সেটি হবে এক গভীর দুঃখের বিষয়।”বৃহস্পতিবার (০৯ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি লিখেছেন— গতকাল সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনে ভৈরবের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। সঙ্গে ছিলেন যাতায়াত খাত বিশেষজ্ঞ ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. মইনুদ্দিন, রেল ও সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তারা। ট্রেনে ওঠার আগে কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখি ও যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করি। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ভৈরব পৌঁছে সেখান থেকে গাড়িতে করে #আশুগঞ্জ# ট্রেন স্টেশন পরিদর্শন করি।সেখানে বিএনপি, জামায়াতসহ স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলি।

তাঁদের দাবি— স্টেশনটিকে আগের মতো বি শ্রেণিভুক্ত করতে হবে। স্টেশনটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। উঁচু জায়গায় হওয়ায় মহিলা ও বয়স্ক যাত্রীদের ওঠানামা করা কঠিন। সিগনালিংসহ অন্যান্য ত্রুটি ঠিক করার নির্দেশ রেল মহাপরিচালককে দেওয়া হয়েছে।পরে সরাইলের পথে রওনা হই। সাত-আট কিলোমিটার পথ অতিক্রমে এক ঘণ্টা পেরিয়েও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় প্রথমে হেঁটে, পরে মোটরসাইকেলে করে যাত্রা শুরু করি। মোটরসাইকেল খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, কারো কাছেই হেলমেট নেই। বহু খোঁজাখুঁজির পর একটিমাত্র হেলমেট পাওয়া যায়। চালকের জন্য হেলমেট না পেয়ে সবার পরামর্শে নিজেই হেলমেট পরে রওনা দিই। হেলমেটবিহীন বাইক চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ এবং বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

যানজটের মূল কারণ সরাইল চৌরাস্তার নির্মাণ কাজ হলেও দেখা গেছে, আসল সমস্যা চালকদের শৃঙ্খলার অভাব ও হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশের দুর্বল ব্যবস্থাপনা। ভারতীয় ঋণে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের ঠিকাদার কিছুদিন কাজ বন্ধ করে চলে যাওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। এখন তারা ফিরে এসে পুনরায় কাজ শুরু করেছে।মূল সড়কের দুই পাশে সার্ভিস লেন থাকা সত্ত্বেও সঠিকভাবে ব্যবহার না করায় রাস্তায় জট তৈরি হচ্ছে। ডিভাইডার ভেঙে ফেলায় দুই লেনের রাস্তা কোথাও তিন-চার লেনে পরিণত হচ্ছে। ফলে সবাই আগে যেতে চাচ্ছে, কিন্তু কেউই এগোতে পারছে না। হাইওয়ে পুলিশ যদি সক্রিয় থাকত, এই পরিস্থিতি হতো না। এ বিষয়ে পুলিশের আইজিপির সঙ্গে কথা হয়েছে, আজ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গেও আলোচনা হবে।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাস্তা সংস্কারের জন্য ছয়টি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগেই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ ১২ জন কর্মকর্তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত এই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।ফেরার পথে সমকালের এক সাংবাদিক ‘উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিট’ প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে চান।

তিনি বলেন, “এই বিষয়টি যিনি তুলেছেন— প্রাক্তন উপদেষ্টা ও বর্তমান এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম— তিনি আমার অত্যন্ত স্নেহভাজন এবং জুলাই আন্দোলনের অগ্রসেনা হিসেবে শ্রদ্ধার পাত্র। তাই তাঁর বক্তব্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করা আমার জন্য শোভন নয়। তাছাড়া আমি রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো মন্তব্য করি না।”তিনি আরও লেখেন, “উপদেষ্টা হওয়ার পর থেকে আমার দৈনন্দিন কর্মতালিকা এমনই। গতকালও রাত আটটায় বাসায় ফিরেছি। নিজের পদ ব্যবহার করে কখনো কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা নেইনি। আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের চাকরি বা ব্যবসায় সুযোগ করে দিইনি। সীমিত সামর্থ্য দিয়েই জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষকতা জীবনের সুবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের স্থায়ী নাগরিক হওয়ার সুযোগ থাকলেও তা গ্রহণ করিনি।”শেষে তিনি লিখেছেন, “তাই আজ যদি ৭২ বছর বয়সে আমাকে সেফ এক্সিটের কথা ভাবতে হয়— তবে তা হবে গভীর দুঃখের বিষয়!”