ডেস্ক রিপোর্টঃ
সাউথ কোরিয়াতে নামার পর অতিদ্রুত আমার যে ব্যাপারটা ভাল লেগেছে তা হলো ইনছন বিমানবন্দর। মেইন গেট থেকে এক্সিট নেওয়ার পর অপেক্ষমান আমার বন্ধুরা যে স্থানটিতে বসেছিল সেটি দেখতে বাংলাদেশের যেকোন ভাল পরিপাটি পার্কের মত।একপাশে সারিবদ্ধ ভাবে খাবারের দোকান, ট্রানপোর্ট কার্ডের দোকান এবং অন্যান্য দোকান।
অপরপাশে টাকা কনভার্টের বিভিন্ন ব্যাংকের মানি এক্সচেঞ্জের অফিস, সকল পরিবহনের টিকেট কাটার মেশিন এবং তার ঠিক সাথের এক্সিট দিয়ে বের হলেই বাস। ভিতরে যে স্থানটিতে মানুষজন অপেক্ষা করে সেখানে কোন ভীর বা ধাক্কাধাক্কি নেই, কোন নিরাপত্তা কর্মীর বাশির আওয়াজ নেই। ঠিক সময়মত বাস ছেড়ে দিল বুসানের উদ্দেশ্যে, বাসে শুধু ড্রাইভার কোন হেল্পার নেই। ড্রাইভার নিজেই নেমে এসে সকল যাত্রীদের লাগেজগুলো বাসে রাখার ব্যবস্থা করে দেই।
প্রায় ৬ ঘন্টার বাস ভ্রমণের মধ্যে একবার শুধু ব্রেক দেয়। প্রায় ৬ ঘন্টায় রাস্তার দুপাশে শুধু পাহাড় আর পাহাড় দেখলাম।পাহাড়ের গলিগুলোর মধ্যে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট গ্রাম,কৃষি, ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং হাজার হাজার বহুতল বিশিষ্ট বিল্ডিং। এক কথায় যদি বলি বিরক্তহীন বাস জার্নি। এ শহরে ধুলো নেই, ধুলোর মত ময়লাযুক্ত কোন মানুষ চোখে পড়েনি। দুজন কোরিয়ানের সাহায্য নিলাম আমাদের ঠিকানায় পৌঁছানোর জন্য। তারা আমাদের দেখেই বললো উইগুগিন ( বিদেশি ),খেনচেনাইয়ো ( সমস্যা নাই )।
বুসান সম্পুর্ণ নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে আবদ্ধ। মানুষ,যানবাহন, রাস্তাঘাট এভরিথিং। যারা ভ্রমণ পিপাসু তাদের কাছে বুসান মনোমুগ্ধকর লাগবে সবসময়। আমি যেহেতু জীবনের ভ্রমণে আছি আশা করছি বুসানে আমার আগামী জীবন যাত্রা সহজ হবে। এখানাকার বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বাংলাদেশের যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পরিবেশবান্ধব। বুসানা শব্দের যদি আভিধানিক অর্থ করি তাহলে এমন ধারায় বু শব্দের কোরিয়ান অর্থ হলো দেখা আর সান হলো পাহাড়। বুসান শব্দের অর্থটা আমার কাছে এমন হয় যা পাহাড় দেখা। কিন্তু কোরিয়ানরা পাহাড় দেখার পাশাপাশি অলিতে-গলিতে কৃষি এবং দারুন সব মজবুত বিল্ডিং বানিয়েছে যা চোখের মধ্যে একটা শান্তি এনে দিল নিমিষেই। পাহাড়গুলোকে এত নান্দনিকভাবে ব্যবহার করা যায় সাউথ কোরিয়াতে না এলে আমার অজানা থেকে যেত।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত আমাদের কক্সবাজার এবং আমাদেরও কিছু পাহাড় আছে। বাংলাদেশ যদি সত্যিই চাই তাহলে পাহড়গুলোকে এবং সমুদ্র সৈকতকেও প্রোপার ইউটিলাইজেশনের মাধ্যমে পৃথিবীমুখি করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।তুমি যে হাতে পৃথিবীর ছবি আকোযতটুকু চোখে দেখেছো পৃথিবীর রুপতা কেবল সামান্য, অতি সামান্য।
