সাকিব ছাড়াও যেসব বাংলাদেশি বোলিং নিষেধাজ্ঞায় পড়েছিলেন

লেখক: আরিফ হাসান
প্রকাশ: ২ years ago

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আরেকটি দুঃখজনক ঘটনা যুক্ত হলো। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষদিকে এসে বোলিং নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লেন দেশের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম এবং ভারতের চেন্নাইয়ে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় আইসিসি তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

সাকিবের এই নিষেধাজ্ঞা দেশের ক্রিকেটে বড় এক ধাক্কা। তবে এটি প্রথম নয়; ২০১৯ সালে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন করার অপরাধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন নীতিমালা ভঙ্গের কারণে তিনি দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। তবে এবার বোলিং অ্যাকশনের কারণে এই সমস্যায় পড়লেন। এখন থেকে সাকিব শুধুমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন কিছু নয়। এর আগেও বেশ কয়েকজন বোলার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছেন। নিচে কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:

আব্দুর রাজ্জাক

বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক ২০০৮ সালে ঢাকায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে তার একটি ডেলিভারি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পর নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। ২০০৯ সালের মার্চে বোলিং অ্যাকশন সংশোধনের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন।

সোহাগ গাজী ও আল-আমিন হোসেন

২০১৪ সালে অফ-স্পিনার সোহাগ গাজীর বোলিং অ্যাকশন ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়। পরবর্তী বছর পরীক্ষা দিয়ে তিনি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠেন। একই সময়ে পেসার আল-আমিন হোসেনের অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় তিনি নিষেধাজ্ঞার হাত থেকে রক্ষা পান।

তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি

২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের পর বোলিং অ্যাকশনের কারণে নিষিদ্ধ হন তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি। তবে পরবর্তীতে পরীক্ষা দিয়ে তারা বোলিংয়ে ফিরতে সক্ষম হন।

বিশ্ব ক্রিকেটে এমন ঘটনা

বিশ্ব ক্রিকেটে এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। পাকিস্তানের শোয়েব আখতার, সাঈদ আজমল, মোহাম্মদ হাফিজ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারিন, এবং শ্রীলঙ্কার সচিত্র সেনানায়েকসহ অনেক তারকা বোলারই বোলিং অ্যাকশন নিয়ে নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছেন। তবে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আগের ফর্মে ফেরা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

সাকিবের এই নিষেধাজ্ঞা দলকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেললেও, ব্যাটসম্যান হিসেবে তার আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার প্রত্যাশায় রয়েছে পুরো জাতি।