মাঘের শেষ দিনে শীতের তীব্রতা বাড়লো, দুর্ভোগে জনজীবন

লেখক: আলোক
প্রকাশ: ২ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা পঞ্জিকার হিসাবে আজ মাঘ মাসের শেষ দিন। সাধারণত এই সময়ে শীতের প্রকোপ কমে আসার কথা থাকলেও, উল্টো বাড়ছে তীব্রতা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঠাণ্ডা বাতাসের দাপট বাড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমে গেছে, ফলে শীতের তীব্রতা স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী, পাবনা, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে। ঢাকাতেও ঠাণ্ডার দাপট বেড়েছে, সকালে ও রাতে ঠাণ্ডা বাতাস অনুভূত হচ্ছে।

শীতের তীব্রতা বাড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষ। রাস্তাঘাটে আগের চেয়ে কম লোকজনের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষরা ঠাণ্ডার মধ্যে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। রাস্তার ধারে, ফুটপাত ও স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। শীত নিবারণের জন্য অনেক জায়গায় খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে, দেশের হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিসসহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ও বয়স্কদের হাসপাতালে ভিড় বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া দরকার, বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের উষ্ণ পোশাক পরার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েকদিন শীতের এই ধরণ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ফাল্গুনের প্রথম সপ্তাহ থেকেই তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শীতের এই হঠাৎ তীব্রতা মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেললেও, কিছু অঞ্চলে কৃষকেরা এটাকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে আলু, সরিষা ও গম চাষের জন্য মৃদু শীত উপকারী হতে পারে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

তবে শহর ও গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ইতোমধ্যে শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

শীতের এই অপ্রত্যাশিত বাড়তি তীব্রতা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির ওপর। তবে মাঘের শেষ দিনেও এমন শীত, প্রকৃতির আচরণ যে সবসময় অনুমান করা সম্ভব নয়, সেটাই যেন প্রমাণ করছে।