য়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অভিযানে মানবদেহের অঙ্গ পাচার চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। এই চক্রটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে অবৈধভাবে মহিলাদের গর্ভফুল সংগ্রহ করে হিমায়িত করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছিল।
অভিযানের বিস্তারিত
গত ৭ মার্চ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, একদল অপরাধী পিক-আপ গাড়িতে হিমায়িত প্লাস্টিক ড্রামে প্যাকেটজাত অবস্থায় মহিলাদের গর্ভফুল সদৃশ বস্তু পরিবহন করছে। তারা ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার ধামরাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালী মডেল থানার বলাশপুর হাক্কানী মোড় এলাকায় ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সামনে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম গাড়িটি আটক করে।
গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়—
১. পলিথিনে মোড়ানো ৩৫০টি গর্ভফুল সদৃশ বস্তু
এ সময় গাড়িচালক মো. রুহুল আমিন (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়।
ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের অগ্রগতি
প্রাথমিক তদন্ত শেষে উদ্ধারকৃত বস্তুগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তানভিন সুলতানা আলামত পর্যালোচনা করেন।
গ্রেফতারকৃত রুহুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধামরাই, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন—
চক্রের কাজের পদ্ধতি
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কর্মচারীদের মাধ্যমে গর্ভফুল সদৃশ বস্তু সংগ্রহ করত। এরপর সেগুলো হিমায়িত করে ড্রাইভার রুহুল আমিনের মাধ্যমে ঢাকার ধামরাই এলাকায় মুমিনুর রহমানের কাছে সরবরাহ করত। মুমিনুর রহমান ও দেওয়ান মো. অমিত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সহায়তায় এসব বস্তু প্রক্রিয়াজাত ও ক্রয়-বিক্রয় করতেন। তবে এ কাজে তাদের কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না।
আইনগত ব্যবস্থা
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ধরনের অবৈধ চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক এবং সাধারণ জনগণের জন্যও আতঙ্কের কারণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে।
