মনপুরায় বজ্রপাতের বিভীষিকা: কাঁকড়া শিকারির মর্মান্তিক মৃত্যু, ৮ গবাদি পশুর সলিল সমাধি!

লেখক: মোঃ হোসেন
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

মনপুরা প্রতিনিধি:

মনপুরায় বজ্রপাতের বিভীষিকা: কাঁকড়া শিকারির মর্মান্তিক মৃত্যু, ৮ গবাদি পশুর সলিল সমাধি! প্রকৃতির রুদ্ররোষে স্তব্ধ মনপুরা! এক নিমেষে তছনছ হয়ে গেল একটি পরিবারের স্বপ্ন, আর একাধিক কৃষকের জীবনে নেমে এলো ঘোর অন্ধকার।

সোমবার বিকেলে বজ্রপাতের ভয়াল তাণ্ডবে মনপুরার নিভৃত পল্লীতে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। কাঁকড়া শিকার করতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারালেন একজন খেটে খাওয়া মানুষ, আর একই বজ্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে আটটি নিরীহ গরু ও মহিষ। মনপুরার আকাশ যেন সেদিন শোকের বার্তা নিয়েই এসেছিল।সময়টা ছিল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা।

উপজেলার বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের কাজীর চরে, প্রতিদিনের মতো জীবন দাস (৫০) নামের এক কাঁকড়া শিকারি নিজের জীবিকার তাগিদে বেরিয়েছিলেন। হিন্দু আবাসনের এই বাসিন্দা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি, সেদিনই হবে তাঁর জীবনের শেষ দিন। আকাশ ভেঙে পড়া বজ্র তাঁর তাজা প্রাণ কেড়ে নিল, কাজীর চরের মাটি সেদিন তাঁর রক্তে রঞ্জিত হলো। তাঁর পরিবারের কান্নায় সেদিন ভারী হয়ে উঠেছিল মনপুরার বাতাস।একই বজ্রপাতের বিভীষিকা ছড়িয়ে পড়েছিল উপজেলার আনাচে-কানাচে।

আধঘণ্টা ধরে চলা এই বজ্রপাতের তাণ্ডবে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ইয়াসিন ও জাকিরের দুটি গরু, হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের জিয়া উদ্দিনের তিনটি গরু, একই ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার এলাকার শামসুদ্দিনের একটি মহিষ এবং কলাতলী ইউনিয়নের আরও একটি মহিষ প্রাণ হারিয়েছে। কৃষকের গোয়াল শূন্য করে দিয়েছে প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর পরিহাস। তাদের চোখে এখন শুধুই জল আর বুকে গভীর ক্ষত।মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান কবির এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফজলে রাব্বি উভয়েই এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তাঁরা জানিয়েছেন, বজ্রপাতে একজন মানুষের মৃত্যু এবং গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতির খবর তাঁদের কাছে এসেছে।এই ঘটনা মনপুরার জনমনে গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এক লহমায় ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন আর হারানো প্রাণের বেদনা নিয়ে মনপুরা এখন স্তব্ধ। প্রকৃতির এই নির্মম খেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছে মনপুরার আপামর জনসাধারণ।