আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি:
আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের নিমতলা ও খামার মাঠ এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের কেবি (কন্ট্রোল বক্স) চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত গভীর রাতে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তচক্রের দুঃসাহসিক এই চুরিতে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সরঞ্জামের ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাংবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক রাজু আহম্মেদের মটরে স্থাপিত একটি কেবি এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুজন আলী মেম্বারের খামার মাঠে অবস্থিত বোরিংয়ের তিনটি কেবি খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। রাতের অন্ধকার ও নির্জন পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে তারা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।এই কেবি চুরির ফলে সংশ্লিষ্ট মটর ও বোরিং সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে সেচ কার্যক্রম।
শুষ্ক মৌসুমে বোরিংনির্ভর কৃষিকাজই যেখানে কৃষকদের একমাত্র ভরসা, সেখানে সেচ বন্ধ থাকায় মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক ধারদেনা করে জমি চাষ করেছেন, কিন্তু এখন পানির অভাবে তাদের স্বপ্ন ও শ্রম দুটোই হুমকির মুখে।ভুক্তভোগী কৃষকরা বলেন, রাতের আঁধারে কেবি চুরি হলেও দিনের আলোয় এর দায় আমাদেরই বহন করতে হচ্ছে। ফসল নষ্ট হলে আমরা পথে বসবো। তাদের অভিযোগ, আগেও একাধিকবার পল্লী বিদ্যুতের সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় দুর্বৃত্তচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল প্রশাসনের প্রতি মানবিক আবেদন জানিয়ে বলেন, দ্রুত চোরচক্রকে সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে রাত্রীকালীন টহল জোরদার, পল্লী বিদ্যুতের স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি এবং জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা, যাতে কৃষকদের ফসল ও জীবিকা রক্ষা পায়।এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আলমডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বানী ইসরাইল বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ চোরচক্র সনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্রুত চুরি হওয়া কেবি উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে ।
