পেট্টাহ বাজারে ইকবালের সংগ্রাম

লেখক: এমরানুর রেজা
প্রকাশ: ২ years ago

কলম্বোর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পেট্টাহ বাজার শুধু কেনাকাটার স্থান নয়— শহরের একটি ব্যস্ততম জীবনধারার প্রতিচ্ছবি। পুরান ঢাকার মতো এখানেও দরদাম করে কেনাকাটা না করলে বেশ গুণে গুণে রুপি খোয়াতে হয়। নানা পণ্যের সমাহার, রঙিন দোকানের সারি এবং অসংখ্য মানুষের কোলাহলে ভরপুর এই বাজার যেন এক জীবন্ত চিত্রকলা। এই বাজারেরই এক কোনায় নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ ইকবাল— এক সাধারণ চা বিক্রেতা, যার জীবন সংগ্রামের গল্প কোনো গল্পের চেয়ে কম নয়।

মোহাম্মদ ইকবাল পেট্টাহ বাজারে তার ছোট্ট ফুটপাতের চায়ের দোকান চালান। দোকান বলতে ছাদবিহীন একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা, যেখানে কোনো বসার ব্যবস্থাও নেই। তবে তার দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ কাপ চা বিক্রি হয়। প্রতি কাপের দাম ১০০ রুপি। এত প্রতিযোগিতার মধ্যেও তার দোকানে ভিড় লেগেই থাকে।

ছোটবেলায় বাবা-মা হারিয়ে অকূল সাগরে পড়েছিলেন মোহাম্মদ ইকবাল। জীবনের তাগিদে কাজ শুরু করেন ঠেলাগাড়ির সহযোগী হিসেবে। বিয়ের আগে নিজেই চায়ের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেন, যা আজ তার জীবিকার প্রধান অবলম্বন।

প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় দোকান খুলেন মোহাম্মদ ইকবাল। রাত নয়টা পর্যন্ত চলে তার চায়ের ব্যবসা। সারাদিন কেট যায় গরম চা পরিবেশন করে। আশপাশে আরও আট-নয়টি চায়ের দোকান থাকলেও তার দোকানের স্বাদ এবং আন্তরিকতা ক্রেতাদের আকর্ষণ করে।

চার সন্তানের জনক মোহাম্মদ ইকবাল— তিন ছেলে এখনো সেভাবে কিছু শুরু করেনি, আর একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। উচ্চশিক্ষার সুযোগ না পেলেও তিনি সন্তানদের যতটা সম্ভব ভালোভাবে মানুষ করার চেষ্টা করেছেন।

অত্যন্ত পরিশ্রমী এই মানুষটি তার শ্রমের বিনিময়ে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। তার জন্য নেই কোনো ছুটির দিন, নেই বিশ্রামের সুযোগ। কিন্তু জীবনের বাস্তবতা মেনে নিয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন, প্রতিদিন নতুন উদ্যমে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে পথচলতি মানুষদের দিন শুরু করিয়ে দেন।
পেট্টাহ বাজারের ভিড়ে মোহাম্মদ ইকবালের মতো আরও অনেক সাধারণ মানুষ প্রতিদিন তাদের জীবনসংগ্রামে লড়ে যাচ্ছেন। তাদের কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের গল্পগুলোই একদিন শহরের ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেবে।