ট্রাম্প-জেলেনস্কির বাকবিতন্ডায় কি হতে চলেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের!

লেখক: আলোক
প্রকাশ: ১ বছর আগে

শুক্রবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে প্রকাশ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বৈঠকের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও উপস্থিত ছিলেন।

জেলেনস্কি এই সফরে ইউক্রেনের মূল্যবান খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করেছিলেন। তবে বৈঠকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে বিতর্কের কারণে সেই চুক্তি বাতিল হয়।

রাশিয়ার ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে হামলার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করেছে। তবে ট্রাম্প শুরু থেকেই এই সহায়তার সমালোচক ছিলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন। বৈঠকে ট্রাম্প ও ভ্যান্স অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য জেলেনস্কি যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেননি, যা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের সূত্রপাত করে।

বৈঠকের পর জেলেনস্কি ও তার প্রতিনিধি দলকে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করতে বলা হয় এবং পূর্বনির্ধারিত যৌথ সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রকাশ্য বিরোধ ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইউক্রেনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভ্লাদিমির ফেসেঙ্কো বলেছেন, এখন ইউক্রেনকে নিয়ে মার্কিন মনোভাব কী হবে তা স্পষ্ট নয়, তবে ভালো কিছু হবে এমনটি ধারণা করাও সঠিক হবে না।

ব্রিটেনের রাজনৈতিক নেতা নাইজেল ফারাজ এই ঘটনাকে দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রকাশ্য বিরোধ হয়তো একটি পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে, যা জেলেনস্কিকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানতে বাধ্য করা বা সংকট তৈরি করে পরবর্তী যে কোনো ঘটনার জন্য তাকে দায়ী করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। যদি ট্রাম্প আলোচনার ব্যর্থতার পর ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা স্থগিত করেন, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, তবে তারা কতটা কার্যকরভাবে এবং কতদিন লড়তে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই ঘটনার পর ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।