স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:
প্রশাসনের সাফল্য অনেক সময় পরিমাপ করা হয় অবকাঠামো, উন্নয়ন প্রকল্প কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মাধ্যমে। কিন্তু একজন প্রশাসকের প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তাঁর উদ্যোগ একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখে। আশুগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া সেই বিরল প্রশাসকদের একজন, যাঁর নেতৃত্বে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে।
এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬-এ শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এই সম্মাননা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আশুগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা পরিবারের জন্যও একটি গৌরবের অধ্যায়।৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করা রাফে মোহাম্মদ ছড়া কর্মজীবনের শুরু থেকেই দায়িত্বশীলতা, সততা এবং জনসেবামুখী মনোভাবের জন্য পরিচিত।
আশুগঞ্জে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেন।বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নিয়মিত তদারকি ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্যালয়গুলোর সমস্যা চিহ্নিত করা, দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন।
অনেক শিক্ষক ও অভিভাবকের মতে, একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং শিক্ষার উন্নয়নকে সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিতে চেষ্টা করেছেন।ফলে আশুগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তনের যে ধারা তৈরি হয়েছে, তার স্বীকৃতিস্বরূপ এসেছে এই সম্মানজনক পুরস্কার।রাফে মোহাম্মদ ছড়ার গ্রামের বাড়ি চন্দ্রদিঘলিয়া, ডাকঘর চন্দ্রদিঘলিয়া, উপজেলা গোপালগঞ্জ সদর, জেলা গোপালগঞ্জ। তাঁর এই অর্জনে গর্বিত নিজ জেলা ও গ্রামের মানুষও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে অনেকেই লিখেছেন, তাঁর এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন একটি জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের ভিত্তি। সেই ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে যারা নিরলসভাবে কাজ করেন, তাদের স্বীকৃতি সমাজকে আরও এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করে। রাফে মোহাম্মদ ছড়ার এই অর্জনও তেমনই একটি অনুপ্রেরণার গল্প।জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬ অর্জনের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, আন্তরিক নেতৃত্ব ও দায়বদ্ধতা থাকলে প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্য দিয়েও শিক্ষা ক্ষেত্রে অসাধারণ পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আশুগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা— এই স্বীকৃতি তাঁকে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর পরিসরে শিক্ষা উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আলোকিত হবে আরও বহু শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, সমৃদ্ধ হবে সমাজ ও দেশ।
