নিজস্ব প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হওয়া রিকশাচালক রমজান মুন্সী (৪৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ নিয়ে ওই ঘটনার মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচজনে।রমজান মুন্সী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা, মৃত আকবর মুন্সীর ছেলে। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপালগঞ্জের ঘটনায় আরও দুজন—সুমন বিশ্বাস (৩০) ও আব্বাস আলী (৩০)—গুরুতর আহত অবস্থায় ঢামেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।রমজানের ভাই ইমরান মুন্সী জানান, “আমার ভাই রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
সহিংসতার দিন দুপুর আড়াইটার দিকে রিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতদের ছোড়া দুটি গুলি তাঁর শরীরে লাগে। বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে তাঁকে ঢামেকে আনা হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো গেল না।”ঘটনার দিন (বুধবার) ঘটনাস্থলেই মারা যান আরও চারজন—সোহেল মোল্লা, দীপ্ত সাহা, রমজান আলী ও ইমন তালুকদার।এদিকে, গোপালগঞ্জ জেলা শহরের পরিস্থিতি এখনও থমথমে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শুক্রবারও কারফিউ চলছে। তবে আগের দিনের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান ও ফলের দোকান খোলা থাকলেও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আতঙ্কে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। বৃহস্পতিবার রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও গ্রেপ্তারের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি তারা।উল্লেখ্য, গত বুধবার গোপালগঞ্জ সদরের পৌর পার্কের উন্মুক্ত মঞ্চে এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় হামলা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।—প্রয়োজনে এই প্রতিবেদন সংক্ষিপ্ত বা প্রসারিত করে দেওয়া যাবে।
