প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে একজন ধর্মীয় প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কেউ মসজিদ কিংবা যার যার ধর্মীয় উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে চাইলে তা বাস্তবায়নে সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে একজন ইমাম খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম–মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মাঝে সম্মনী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মসজিদের ইমাম–মুয়াজ্জিন, খাদেম ও মন্দিরের পুরোহিতসহ বিভিন্ন স্কলার ও ধর্ম গুরুরা অংশ নেন। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

​প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসেছি, এক কাতারে রয়েছি। এটিই আমাদের আবহমানকালের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ। কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ–বিরোধ সৃষ্টি করতে না পারে। মুসলমান–হিন্দু–বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী–অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো। সবার জন্য গড়ে তুলবো একটি নিরাপদ রাষ্ট্র ও সমাজ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণি–পেশার মানুষ তথা প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক–সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে। তবে নাগরিকদেরও কিন্তু রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি কিছু দায়–দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিক হিসেবে যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারলে আশা করি, আগামী ১০ বছরের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে পারবো।

​ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, দুনিয়ার কল্যাণের পাশাপাশি আখেরাতের কল্যাণের জন্য প্রার্থনার কথা পবিত্র কোরআনে রয়েছে। ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ বিষয়ক নির্দেশনা নিঃসন্দেহে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিধিবিধান অনুযায়ীও নির্দেশিত রয়েছে। তাই ধর্মীয় বিধিবিধানের আলোকেই আপনারা আপনাদের শিক্ষা–দীক্ষা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে কীভাবে আরও বেশি করে দেশ এবং জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারেন, সেই চিন্তা এবং চেষ্টা অব্যাহত রাখাও জরুরি। তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র মানুষের জীবনে হয়তো আর্থিক স্বাচ্ছন্দ নিশ্চিত করে। কিন্তু ধৈর্য্য, সততা, কৃতজ্ঞতাবোধ, শ্রদ্ধা, আনুগত্য, সংহতি, সহনশীলতা, উদারতা, বন্ধুত্ব, বিনয়, দায় কিংবা দয়া এই সমস্ত বৈশিষ্ট অর্জন ছাড়া একজন ব্যক্তি মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন হয়ে উঠতে পারে না।

এ ধরনের মানবিক বৈশিষ্টগুলো অর্জনের জন্য ধর্মীয় ও সামাজিক নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়া জরুরি বলে আমি মনে করি। তিনি আরও বলেন, আমার বিশ্বাস, রাষ্ট্র–সমাজ এবং পরিবেশ–প্রতিবেশ থেকে অর্জিত আচরণ থেকেই মানুষ তার শুদ্ধ জীবন এবং সুস্থ চিন্তার মানসিক নির্দেশনা পায়।