পবিত্র শবে বরাত: ফজিলত ও গুরুত্ব

লেখক: তুষার ইমরান
প্রকাশ: ১ বছর আগে

আজ পবিত্র শবে বরাত, যা ইসলাম ধর্মে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ রাত হিসেবে গণ্য করা হয়। আরবি ক্যালেন্ডারের ১৪ শাবান দিবাগত রাতে পালিত হয় এই মহিমান্বিত রাত। মুসলমানদের বিশ্বাস, এ রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন, রহমত বর্ষণ করেন এবং ভাগ্য নির্ধারণ করেন।

শবে বরাতের ফজিলত

হাদিস অনুযায়ী, শবে বরাত একটি বরকতময় রাত, যখন মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজীবদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“আল্লাহ তাআলা শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ রাতের প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং বান্দাদের ডেকে বলেন: ‘আছে কি কোনো ক্ষমাপ্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কোনো রিজিক প্রত্যাশী? আমি তাকে রিজিক দেব। আছে কি কোনো বিপদগ্রস্ত? আমি তাকে মুক্তি দেব।’” (ইবনে মাজাহ)

এই রাতের করণীয়

১. ইবাদত-বন্দেগি: এ রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ, তেলাওয়াত, দোয়া ও জিকির করা উত্তম।

  1. তওবা ও ইস্তেগফার: অতীতের গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।
  2. রোজার নিয়ত: রাসুল (সা.) শাবান মাসে নফল রোজা রাখতেন, তাই ১৫ শাবান রোজা রাখা মুস্তাহাব।
  3. কবর জিয়ারত: রাসুলুল্লাহ (সা.) শবে বরাতে জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের জন্য দোয়া করতেন।
  4. পরিবার ও আত্মীয়দের জন্য দোয়া: এ রাতে নিজের পাশাপাশি পরিবার, আত্মীয় ও সমগ্র উম্মাহর জন্য দোয়া করা উচিত।

শবে বরাত সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা

কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা আছে, যেমন—

মোমবাতি, ফানুস বা আতশবাজি ফোটানো

হালুয়া-রুটির আয়োজনকে ফরজ বা সুন্নত মনে করা

মনে করা যে, এই রাতে সবাই অনিবার্যভাবে ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়

শবে বরাত উপলক্ষে আমাদের উচিত এই রাতকে ইবাদত, তওবা ও দোয়ায় কাটানো। মহান আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে দেন এবং রহমত দান করেন। আমিন।