যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজার বাসিন্দারা ধীরে ধীরে নিজেদের ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জানুয়ারি) একদিনে প্রায় তিন লাখ ফিলিস্তিনি গাজা উপত্যকায় ফিরে এসেছেন বলে জানিয়েছে গাজার জনসংযোগ দপ্তর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের কারণে উত্তর গাজার অনেক বাসিন্দা দক্ষিণ এবং মধ্য গাজার বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৪৭০ দিন পর তারা নিজেদের বাড়িঘরে ফিরছেন।
যুদ্ধের ক্ষতিতে পুরো উত্তর গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবুও প্রায় দেড় বছর পর নিজ এলাকায় ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত সেখানকার বাসিন্দারা। সোমবার সকালে হাজারো ফিলিস্তিনি নেৎজারিম করিডোর পেরিয়ে উত্তর গাজায় ফিরতে শুরু করেন। অনেকে ঘোড়া কিংবা গাধার গাড়িতে করে নিজেদের মালপত্র নিয়ে এসেছেন। গাজা সিটির একটি প্রধান সড়কের ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের সামনে “গাজায় স্বাগতম” লেখা একটি ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়।
উত্তর গাজার বাসিন্দা লামিস আল ইওয়াদি, একজন ২২ বছরের তরুণী, জানিয়েছেন যে এতদিন পর নিজ এলাকায় ফিরে তার প্রাণ ফিরে পাওয়ার অনুভূতি হয়েছে। তিনি বলেন, “এতদিন আমি যেন মৃত ছিলাম। আজ মনে হচ্ছে আমি আবার জীবিত হয়েছি।” চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপও তাকে হতাশ করতে পারেনি। লামিস বলেন, “আমরা আবার ঘরবাড়ি তৈরি করব, এমনকি যদি বালি ও কাদা দিয়ে তা করতে হয়, তবুও।”
হামাসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে থাকার জন্য অন্তত ১ লাখ ৩৫ হাজার তাঁবুর প্রয়োজন হবে।
২০২৩ সালের ৭ আগস্ট হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। প্রায় ১৫ মাস ধরে চলা এই অভিযানে ৪৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ১২ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন। লক্ষাধিক মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, এবং মিসরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ১৯ জানুয়ারি থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর পর থেকেই গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষরা তাদের ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।
