দেশে নৈশভোট নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। গত নির্বাচনে নৈশভোটের ঘটনায় যেসব জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাদের অনেকেই এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠছে—তারা কি এই ধরনের দায়িত্বহীনতার জন্য কোনো জবাবদিহির আওতায় আসবে না?
নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা এসব কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও, সরকার তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং তাদের বেশিরভাগই বর্তমান পদে থেকে যাচ্ছেন বা আরো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে জনগণের আস্থা নষ্ট হয়। আর নৈশভোটের মতো ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কলুষিত করে, যা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।
এ প্রসঙ্গে এক সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, “এ ধরনের ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু তদন্ত না হওয়া এবং তাদের বহাল রাখা প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।”
সাধারণ জনগণ এখন দাবি করছে, নৈশভোটের জন্য দায়ী ডিসি-এসপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে। সরকারের দায়িত্বশীল পদে থাকা এসব কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
গণতন্ত্র রক্ষায় এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা কতটা জরুরি, তা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

