নিজস্ব প্রতিনিধি:
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে যে চলতি বছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন দেশের তথ্য হালনাগাদ করা হয়।তবে, আইএমএফ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। সংস্থাটি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির প্রভাবের কথা উল্লেখ করে এই তথ্য জানিয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাসে চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যা জানুয়ারিতে প্রকাশ করা পূর্বাভাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কম। এছাড়াও, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের জন্য ৩ দশমিক শূন্য শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা জানুয়ারির তুলনায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কম। আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ার গৌরিনচাস বলেছেন, “আমরা একটি নতুন যুগে প্রবেশ করছি কারণ গত ৮০ বছর ধরে পরিচালিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে।”যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা চীনা পণ্যের ওপর মোট শুল্ক এখন ১৪৫ শতাংশ, যা বেড়ে ২৪৫ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে। হোয়াইট হাউস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে চীনও। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করেছে। তাছাড়া, বিভিন্ন দেশের ওপর যে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়াও, গাড়ি, অ্যালুমিনিয়াম ও স্পাতের আমদানির ওপর আলাদা শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।এদিকে, বাংলাদেশের জন্য ২০২৫ সালের জিডিপির নতুন পূর্বাভাসে আইএমএফ জানিয়েছে যে আগামী বছর প্রবৃদ্ধি বেড়ে সাড়ে ৬ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আইএমএফ বলছে, চলতি বছর বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ হবে। ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফের বসন্তকালীন যৌথ সভার দ্বিতীয় দিনে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। আগামী ২১ এপ্রিল এই সভা শুরু হয়েছে এবং ২৬ এপ্রিল শেষ হবে।
