‘ইরানকে ঘিরে বড় সংঘাতের প্রস্তুতির ইঙ্গিত আগেই ছিল’: রুশ দূতাবাসের প্রেস সেক্রেটারি।

লেখক: আল ফাতিহা নুহা
প্রকাশ: ৯ ঘন্টা আগে

জবি প্রতিনিধি:

ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত শুরুর আগে সামরিক, রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলক প্রস্তুতির যে পরিসর ও ধরন দেখা গিয়েছিল, তাতে বড় ধরনের সংঘাতের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূতের প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভা। তার মতে, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে ইরান নিজেকে একটি স্থিতিস্থাপক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করেছে।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব মিডিয়া: নৈতিক দায়বদ্ধতা ও আত্মপর্যালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সোফিয়া কুতেপোভা বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আক্রমণের পূর্বে সামরিক, রাজনৈতিক এবং প্রচারণামূলক প্রস্তুতি যে পরিসর ও চরিত্রের ছিল, তা এই সংকেতই দিচ্ছিল যে এক বিরাট সংঘাত শুরু হতে যাচ্ছে।”তিনি বলেন, সংঘাত শুরু হওয়ার ঘটনায় রাশিয়া গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিল। একই সঙ্গে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনাতেও রাশিয়া শোক প্রকাশ করেছে বলে জানান তিনি।ইরানের সক্ষমতা প্রসঙ্গে রুশ দূতাবাসের প্রেস সেক্রেটারি বলেন, “ইরান নিজেকে একটি স্থিতিস্থাপক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে; তারা এটিকে আরেকটি সহজ লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারেনি।”তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার তুলনায় বেশি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরেছে।

সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতা পেশায় আসার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে সোফিয়া কুতেপোভা নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। রুশ দূতাবাসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার আগে তিনি রাশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন বলে জানান।ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সত্যকে গুরুত্ব দেওয়া এবং পাঠক ও দর্শকদের সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য তথ্য যাচাই বা ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ করা অত্যন্ত জরুরি।সোফিয়া কুতেপোভা বলেন, “মিডিয়া কর্মীদের জন্য সত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের দর্শক ও পাঠকদের সঠিক তথ্য প্রদান ও নিখুঁত থাকার জন্য তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

”বক্তব্যের শেষে আমন্ত্রণ ও উপস্থিতির জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর।সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস। বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন এবং ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী।এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।