ডাকঘর: মানবাত্মার মুক্তির প্রতিচ্ছবি

লেখক: আয়তিলতা
প্রকাশ: ৫ ঘন্টা আগে

‘ডাকঘর’ (১৯১১ খ্রিস্টাব্দ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক। ১৯১২ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত। মোট তিনটি দৃশ্যে ও ৩৯৯টি সংলাপে সমগ্র নাটকটি সম্পূর্ণ হয়েছে। ডাকঘর রবীন্দ্রনাথের সাংকেতিক নাটকগুলির মধ্যে সম্ভবত সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় যা দেশে তো বটেই, বিদেশেও অনূদিত ও অভিনীত হয়েছিল।

সীমার মাঝে অসীমের আহ্বান শুনতে পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যার স্পষ্ট ইঙ্গিত খুঁজে পাওয়া যায় অমলের মধ্যে । অমলের নিদ্রা তথা আরোগ্য লাভ তাকে মুক্তির আস্বাদ দিয়েছিল যা একাধারে চিরকালীন মুক্তিকামী মানুষেরও আকাঙ্ক্ষা । শৃঙ্খলাবদ্ধ অন্ধকাররাজ্য থেকে বেড়িয়ে আসা মুক্তির পথযাত্রী মানুষের অদ্বিতীয় রুপ ‘অমল’। যার অর্থ অমলিন।

মানুষের মনের গভীর অতলে কোথাও চাপা পড়ে থাকা চঞ্চল ছটফটে এমন একটা অনুভূতি, যা থেকে থেকেই বিলাপ করে ওঠে। সেটা হচ্ছে মুক্তির আকুতি। শুধুমাত্র ঘরের চারটা দেয়াল নয়, আরও অনেক অজস্র অদৃশ্য বাঁধা মানুষকে নির্মমভাবে বন্দি করে রাখে। মানুষ মাত্রই কোনো না কোনোভাবে বন্দি। তাই মুক্তির শব্দ কানে এসে লাগতেই সে চঞ্চল হয়ে ওঠে। প্রাণটা তার তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো আঁকুপাঁকু করতে থাকে। কখনো কখনো মুক্তির তৃষ্ণায় পাগলপ্রায় হয়ে যায় কিন্তু মুক্তি নামক সোনার হরিণ তাকে ধরা দেয় না। এদিক ওদিক দিয়ে পাশ কাটিয়ে তার সেই তৃষ্ণাকে যেন আরও প্রখর করে তোলে। মুক্তির জন্য এই আকুলতা পাঠক, দর্শক এবং এই দুই শ্রেণির বাইরের প্রত্যেকের মধ্যেই রয়েছে কোনো না কোনো রূপ নিয়ে। একেকজনের ক্ষেত্রে বন্দির কারণ যেহেতু একেকরকম, তাই মুক্তির এই রঙটাও একেকরকম। আর রবীন্দ্রনাথ যা করেছেন তা হলো মানব-মনের সুপ্ত অস্পর্শ এই আকাঙ্ক্ষাটিকে খুব শৈল্পিক আর সুচারুভাবে ভাষার গাঁথুনি দিয়ে এঁকে ফেলেছেন। পাঠক এবং দর্শকেরা তার এই সৃজন দেখে আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করে– আরে! এ যে আমার কথাই বলা হচ্ছে! অন্য রূপে, অন্য চরিত্রে, অন্য কাহিনীতে এ তো আমিই। এখানেই এই নাটকের সফলতা। আর এটা কে না জানে যে মানুষের স্পষ্ট এবং অস্পষ্ট সকল রকমের আবেগ-অনুভূতি কত সহজে রবীন্দ্রনাথের কালির দোয়াতের সামনে এসে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে।

ডাকঘর নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যায় ‘অমল’ নামের একটা রুগ্ন শান্তশিষ্ট অসহায় বালককে। তার চাওয়া-পাওয়া ও করুণ পরিণতি নিয়ে ডাকঘর নাটকের প্রেক্ষাপট নির্মিত হয়েছে। মাধবদত্তের স্ত্রীর গ্রাম সম্পর্কের ভাইপো হচ্ছে এই অমল। নিঃসন্তান মাধব দত্ত অমলকে দত্তক হিসেবে গ্রহণ করেছে। কিন্তু শুরু থেকেই এই বালকটি অত্যন্ত রোগা। কবিরাজের মতে বাইরের আলো হাওয়া এই বালকের জন্য ভয়ঙ্কর ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই মাধব দত্ত সবসময় অমলকে ঘরে বন্দি করে রাখে। কিন্তু বাইরের পৃথিবী প্রতিনিয়ত অমলকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। অমল জানালার পাশে বসে থেকে বাইরে হারিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। তার সেই জানালা দিয়ে দূরের নীল আকাশ, মেঠোপথ, সেই পথ দিয়ে অনেক দূর থেকে পুঁটুলি বাঁধা লাঠি কাঁধে হেঁটে আসা পথিক, দুপুর রোদে ভাঁড় কাঁধে নিয়ে হাঁকতে হাঁকতে চলে যাওয়া দইওয়ালা, রাস্তার ছেলের দল, প্রহরী, শশী মালিনীর মেয়ে সুধা, দূরের পাহাড়—সবই যেন অমলের বন্দিজীবনকে নিবিড়ভাবে কাছে টানে। তাদেরকে সে ডেকে ডেকে থামায়। তাদের সাথে দুটো কথা বলার জন্য। তারা অমলের সাথে কথা বলে। অমল তাদের কাছে বাইরের পৃথিবীর গল্প শোনে। শুনে বিস্মিত হয়। অমল সবসময় ওই দূরের পৃথিবীতে হারিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। বন্দিজীবনের এক অব্যক্ত যন্ত্রণা তাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। সেটা সে মাধব দত্তের কাছে প্রকাশও করে। জানালার সামনে আসা শশী মালিনীর মেয়ে সুধার সাথে অমল গল্প করতে চায়। তার সাথে গভীর বন্ধুত্ব করার আগ্রহ প্রকাশ করে। রাস্তায় ছেলের দলের খেলাধুলা দেখে সে গভীর প্রশান্তি ফিরে পায়। একসময় সে তার নিজের সমস্ত খেলনা ওই ছেলেদের বিলিয়ে দেয় এবং তাদের করুণভাবে মিনতি জানায় যেন এসব খেলনা দিয়ে তারা অমলের সামনে খেলতে থাকে। অবশেষে একদিন প্রহরীর কাছে সে রাজার ডাকঘর বসার খবর জানতে পারে। এতে যেন তার বন্দি জীবনের গ্লানি অনেকটাই কমে যায়। ওই ডাকঘরে রাজার চিঠি আসবে শুনে খুশিতে তার প্রাণ নেচে ওঠে। অমলকে বলা হয় তার নামেও রাজার চিঠি আসবে। এটা শুনে অমলের চিত্ত প্রবল উচ্ছ্বাসে উল্লাসে নেচে ওঠে৷ ঐ ডাকঘরের ডাকহরকরা হওয়ার জন্য সে ইচ্ছা প্রকাশ করে। চিঠি নিয়ে দেশ থেকে দেশ ঘুরে বেড়াবে বলে স্বপ্ন দেখে। শেষমেশ রাজার চিঠির জন্য আকুল হয়ে অপেক্ষা করে অমল। এভাবেই অমলের অপেক্ষার মধ্য দিয়ে নাটকটি পরিণতির দিকে এগোয়। অপেক্ষা করতে করতে অমল গুরুতর অসুস্থ হয়ে যায়। এর মধ্যে চরিত্রগুলো আসা-যাওয়া করে। কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করে, কেউবা সস্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আশ্বাস যোগায়। একটা সময়ে গিয়ে নাটকটির অন্তিম ক্ষণ উপস্থিত হয়। অমলেরও সময় ফুরিয়ে আসে। নাটকের একেবারে শেষে একটা বিশেষ সময়ে সেই শশী মালিনীর মেয়ে সুধা চরিত্রটি এমনভাবে প্রবেশ করে যা আরেকটা তীব্র হাহাকারের জন্ম দেয়। শেষটা হয় রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের মতো করে। কী একটা শৈল্পিক বিষাদে আচ্ছন্ন করে দেয় সবকিছু।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রূপক / প্রতীক নাটকগুলি যে একটি বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী একথা অনস্বীকার্য । বাংলা সাহিত্যে এই ধরনের নাটক আগে রচিত হয়নি বললেই চলে । ‘ডাকঘর’ নাটকটি রবীন্দ্রনাথের অরূপ সাধনার যুগের রচনা । ‘ডাকঘর’ নাটকটি রূপক সাংকেতিক নাটক বা রূপক-সংকেতমিশ্র নাটকের অন্তর্ভুক্ত । রূপকের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Allegory’ . এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হল এক বোঝাতে অন্য বলা । ‘Allegorical Drama’ বা রূপক নাটক বলতে বোঝায় বিশেষ ধরনের রচনা যাতে কাহিনি, ঘটনা , চরিত্র প্রভৃতি উপায় বা উপলক্ষ মাত্র এবং লক্ষ্য হচ্ছে কোন ভাব বা তত্ত্ব । আপাত কাহিনিটির সমান্তরালে অন্তনির্হিত ভাবার্থটিকে ব্যক্ত করা হয় এখানে ।

ডাকঘর নাটকে সুদূরের সংকেত , অজানার ইঙ্গিত সকরুণ গীতিমাধুর্যে আত্মপ্রকাশ করেছে । অমল, সুধা, ঠাকুরদাদা, ডাকহরকরা, অদৃশ্য রাজাকে কেন্দ্র করে এমন সুন্দর করুন একটি রহস্য ঘনীভূত হয়েছে এবং এমন সুকৌশলে শেষপর্যন্ত সেই রহস্যটিকে ধরে রাখা হয়েছে যার তুলনা অন্য সাংকেতিক রহস্যময় নাটকগুলিতে নেই ।

‘অমল’ নামে একটি ছয়-সাত বছরের ছেলে, তারই ক্ষয় অবসন্নতা ও মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এই নাটক। শারীরিক বদ্ধতার মধ্যে ক্লান্তি ও অসহায়তার মধ্যে তার মনটি কেমন উজ্জ্বল চঞ্চলতায় দেশবিদেশ পরিক্রমায় ছুটে যেতে চাইছে, এই দ্বন্দ্ব সমগ্র পরিসর জুড়ে ফুটিয়ে তোলেন লেখক রবীন্দ্রনাথ।
নাটকে মৃত্যুর উপস্থিতি প্রতীকী; মুক্তির কথাটা এসেছে ব্যঞ্জনায়। রাজার ডাকঘর, ডাকঘরের নানা ডাকহরকরা, এবং তাদের বয়ে নিয়ে আসা রাজার চিঠি, সবই এই প্রতীকের অঙ্গ।

১। অমল—মানবাত্মার প্রতীক।আত্মা চায় মুক্তি । সে ব্যাকুল হয়ে ওঠে রাজা বা অরূপের সাথে মিলনের জন্য।
২।প্রহরী—- সময় বা কালের প্রতীক।
৩।ঘুম—- মৃত্যু তথা মুক্তির প্রতীক।এই মৃত্যু জীবনের শেষ নয় , তা নবজীবন লাভের মাধ্যম মাত্র । মৃত্যু পূর্ণতায় পৌঁছানোর সোপান । মৃত্যুর মধ্যেই মানুষের বন্ধনমুক্তি ঘটে । সুতরাং ঘুম এখানে প্রতীক নিদ্রা হয়ে উঠেছে ।
৪।সুধার হাতের ফুল—-প্রেমের প্রতীক।
৫।ডাকঘর—- বিপুল বিচিত্র পৃথিবী তথা বিশ্বপ্রকৃতি ।
৬।চিঠি –সৌন্দর্য ও আনন্দ রূপের প্রতীক।
রূপক – সংকেতের মাধ্যমে তিনি মূলত রুদ্ধ ও বদ্ধ জীবন থেকে আনন্দ -সৌন্দর্য্য-মুক্তির বানী পৌঁছে দিতে চেয়েছেন অমলের মাধ্যমে । রূপকের স্পর্শে নাটকটি যথার্থই রূপক নাটক হয়ে উঠেছে ।

‘ডাকঘর’ নাটকে রুগ্ন বালক অমলের অসুস্থতাকে ঘিরে জাগতিক বৃত্তাবদ্ধতা। আত্মার মুক্তি এবং মহাজাগতিক প্রবহমান সৌন্দর্যের প্রতি বা বিশ্বাত্মার প্রতি মানবাত্মার অমোঘ আকর্ষণের মধ্য যে দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা নাট্যবোদ্ধা রসিক সমালোচক পাঠকের চেতনায় অমলের মৃত্যুকেই প্রধান বিবেচ্য করে তোলে। স্বীকার করতে দোষ নেই, নাটকে শিশু অমলের মৃত্যুর সত্যিকার পটভূমি রচিত হয়েছে এবং কবিরাজের নিষেধ অগ্রাহ্য করে রাজকবিরাজ ঘরের সমস্ত বন্ধ দরজা, জানালা খুলে দিয়ে বাইরের সঙ্গে অন্দরের মহামিলন ঘটিয়ে দিয়েছেন। এতে নাটকে যে, রহস্যগ্রন্থি রচিত হয়েছে তা ট্র্যাজিক রসের উদ্গাতা এবং সে রস পাঠকের চিত্তভূমি প্লাবিত করে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অমলের মৃত্যু সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়াই তো যায়। কিন্তু তা কতটা যৌক্তিক এবং কাব্যসত্যের বিচারে সঠিক তাও অবশ্য বিচার্য।

১৯১১/১২ খ্রিষ্টাব্দে শান্তিনিকেতনে মাত্র তিন দিনের শ্রমে-ঘামে ডাকঘরের সৃষ্টি। ‘ডাকঘর’ রচনাকালে তিনি পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের বিচিত্র অভিজ্ঞতায় প্রাজ্ঞ একজন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব। এরই মধ্যে তিনি রক্ত সম্পর্কের ও প্রাণের সম্পর্কের যেসব পারিবারিক সদস্যের মৃত্যুজনিত শোকসাগর সাঁতরে নৈমিত্তিকতার তীরে উঠেছিলেন তারা মা সারদা দেবী (১৮৭৫), নতুন বৌঠান কাদম্বরী দেবী (১৮৮৪), স্ত্রী মৃণালিনী (১৯০২), কন্যা রেণুকা (১৯০৪), পিতৃদেব (১৯০৫), প্রিয়তম পুত্র শমীন্দ্রনাথ (১৯০৭) প্রমুখ। এসব নিকটজনের মৃত্যুশোক কবির জন্য ছিল অস্তিত্বের ওপর অপঘাত। তন্মধ্যে কাদম্বরী দেবীর মৃত্যু রসেকষে বাংলা সাহিত্যের বহুল আলোচিত প্রসঙ্গ। উপর্যুপরি এতগুলো মৃত্যু ঘটনাজনিত শোককে রবীন্দ্রনাথ শক্তিতে পরিণত করেছিলেন। তন্মধ্যে ডাকঘরের অমলের প্রায় সমবয়সী শমীন্দ্রনাথের অকাল (১১ বছর) মৃত্যুর ঘটনা তাঁকে ভয়ংকরভাবে আলোড়িত করে থাকবে। সম্ভবত শমীর মৃত্যুর সঙ্গে মিলিয়ে অমলের মৃত্যুর ভাবনাও অসংগত মনে হয় না। আবার তাকে জোর করে প্রতিষ্ঠা দিতে যাওয়াও যায় না। ডাকঘরের গ্রন্থ পরিচয় অংশে চয়িতার বক্তব্য—‘ডাকঘর’ রচনাকালে “আমার মনের মধ্যে বিচ্ছেদের বেদনা ততটা ছিল না।” তত না হোক ছিল এ কথা সত্য। রবীন্দ্রনাথ আরও বলেন—

“ডাকঘর যখন লিখি তখন হঠাৎ আমার অন্তরের মধ্যে আবেগের তরঙ্গ উঠেছিল। চল চল বাইরে, যাবার আগে তোমাকে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে হবে সেখানকার মানুষের সুখদুঃখের উচ্ছ্বাসের পরিচয় পেতে হবে। রাত দুটো-তিনটের সময় অন্ধকার ছাদে এসে মনটা পাখা বিস্তার করল। আমার মনে হচ্ছিল একটা কিছু ঘটবে, হয়তো মৃত্যু।কোথাও যাবার ডাক ও মৃত্যুর কথা ডাকঘরে প্রকাশ করলুম।”

এই দুটো প্রসঙ্গই রবীন্দ্রভাব বিশ্বের রূপে-রসে রঞ্জিত হয়ে এখানে অভিব্যক্তি পেয়েছে। আমৃত্যু শিল্পসাধনার ব্যাপ্ত সময়পরিধিতে সীমা ও অসীমের মেলবন্ধন রচনার অগ্রযাত্রায় অন্য অনেক চিন্তার মতো রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুচিন্তারও রূপান্তর লক্ষণীয়। যৌবনে তাঁর রোমান্টিক মন মৃত্যুকে ‘শ্যাম সমান’ কাঙ্ক্ষিত বলে ঘোষণা করেছিল। যদিও সাধারণের কাছে মৃত্যু তা নয়। দেহ ও প্রাণকে তিনি ‘শেষ সপ্তকে’র ‘বাইশ’ সংখ্যক কবিতায় পৃথক করেছেন—

“শুরু হতেই ও আমার সঙ্গ ধরেছে/
ওই একটা অনেক কালের বুড়ো/
আমাতে মিশিয়ে আছে এক হয়ে।/

মুহূর্তে মুহূর্তে ও জিতে নিয়েছে আমার মমতা/
তাই ওকে যখন মরণে ধরে/
ভয় লাগে আমার/
যে-আমি মৃত্যুহীন।”

বৃদ্ধ দেহটার মৃত্যুও কামনা করছেন এবং দেহবিহীন প্রাণের যে অস্তিত্ব নেই তা আবিষ্কার করে কষ্ট অনুভব করেছেন। দেহের খাঁচায় প্রাণসত্তা, আত্মা বন্দি। তার মুক্তি চাই-ই। মৃত্যু রবীন্দ্র-চেতনায় মুক্তি। সেই বন্দিদশা থেকে মহাজগতে লীন হবার উপায়, পরম মুক্তি। এ বিশ্বজগতে জীবনলীলার প্রাত্যহিকতার ভিতর দিয়ে নিখিল জীবন স্রোতকে প্রত্যক্ষ করতেন রবীন্দ্রনাথ। কেবল তাই নয়, ব্যক্তি অস্তিত্বের নিভৃতে যে, তারই নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ চলিষ্ণু তাতে কবির ছিল স্থির বিশ্বাস। ‘আত্মপরিচয়’ দ্রষ্টব্য। ১৮৮৫ সালে রচিত ‘বিচিত্র প্রবন্ধে’র ‘রুদ্ধ গৃহ’ নামক রচনায় রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুচেতনার বিশেষ রূপটির প্রকাশ লক্ষণীয়। এ-রচনায় তিনি বলেন–

“পৃথিবী মৃত্যুকেও কোলে করিয়া লয় জীবনকেও কোলে করিয়া রাখে, পৃথিবীর কোলে উভয়েই ভাইবোনের মতো খেলা করে। এই জীবনমৃত্যুর প্রবাহ দেখিলে, তরঙ্গভঙ্গের উপর ছায়া-আলোর খেলা দেখিলে, আমাদের কোনো ভয় থাকে না। কিন্তু বন্ধ-মৃত্যু রুদ্ধ-ছায়া দেখিলেই আমাদের ভয় হয়। মৃত্যুর গতি যেখানে আছে, জীবনের হাত ধরিয়া মৃত্যু যেখানে একতালে নৃত্য করে, সেখানে মৃত্যুরও জীবন আছে, সেখানে মৃত্যু ভয়ানক নহে। কিন্তু চিহ্নের মধ্যে আবদ্ধ গতিহীন মৃত্যুই প্রকৃত মৃত্যু, তাহাই ভয়ানক।”

ডাকঘরে এই ‘চিহ্নের মধ্যে আবদ্ধ গতিহীন মৃত্যু’র ষোলআনা আয়োজন সম্পন্ন করে ‘কবিরাজ’ কিন্তু ‘রাজকবিরাজ’ বাইরের সাথে ভিতরের, অন্দরের সাথে সদরের, আলোর সাথে বদ্ধঘরের অন্ধকারের মিলন ঘটিয়ে দিয়ে প্রকৃত মৃত্যুর নখর বিদ্ধ অমলকে বিশ্বপ্রকৃতির মধ্যে, আনন্দের মধ্যে, অসীমের মধ্যে মুক্তি দিয়েছেন। তাইতো অমল মরে না। বিশ্রামের পরিতৃপ্তির নিদ্রার কোলে আশ্রয় নেয়। সুধা যে তাকে ভোলেনি, তার জন্যই অমলকে জেগে উঠতে হবে। ছোট্ট পরিসরের এই টেক্সট ঐতিহ্যবাহী পালানাটকের নিয়মে রুগ্ন অমলের ঘরে, ঘরের বাইরে আঙিনায় নাটকের সমস্ত চরিত্র নির্দিষ্ট নিয়মে আসা-যাওয়া করে।

কেজো পৃথিবী আর তার রক্ষক কায়েমি স্বার্থবাদী মোড়ল, প্রাণের বিনষ্টি সাধক, সংস্কাররক্ষক কবিরাজ, মাধবদত্তদের মতো সংসারজীবী স্বার্থপরের বাস এই পৃথিবীতে। বিশ্ববীণার প্রাণের তন্ত্রীতে যে নিত্য সুরের ঝংকার প্রতিনিয়ত ধ্বনিত হচ্ছে, তার স্পর্শ ওদের চেতনা আলোড়িত করে না। কাঁধে বাঁশের লাঠি, লাঠির আগায় পুঁটুলিতে ছাতু যে পথিক নাগরা জুতা পরে অজানার পথে প্রবাহিত হচ্ছে, শামলী নদীর ধারের পাঁচমুড়া পাহাড়ের তলার গ্রাম থেকে আসা দইওয়ালা, প্রহরী, অন্ধ খোঁড়া ভিক্ষুক, মালিনীর মেয়ে সুধা এবং ছেলের দল অসুস্থ অমলের কাছে কর্মমুখর নিত্য গতিশীল ও পরিবর্তনশীল পৃথিবী ও তার অনন্ত সৌন্দর্য উপস্থাপন করে। সেসব তথ্য অমলের অভাবনীয় কল্পনাশক্তিকে উস্কে দেয়। অদেখা, অজানা, অচেনা স্থান সম্পর্কে অমলের কল্পনাসৃষ্ট বর্ণনা, বর্ণিত দৃশ্যাবলি জাতিশ্বরকেও হার মানায়। অমল কোনো ব্যক্তিরূপ নয়, রবীন্দ্রনাথের গৃহবন্দি আত্মা। ঠাকুরদা, ফকির, রাজকবিরাজ অভিন্ন চরিত্রের ভিন্ন ভিন্ন রূপ। তাদের পরিণত বয়সের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, মহাজাগতিক রহস্যানুভব অমলের চৈতন্যের পরিপূরক। তারা কেজো পৃথিবীর বাইরের জগতের নিবাসী। বিনাখরচায় ফকির রূপকথার ক্রৌঞ্চদ্বীপ ঘুরে অমলের কাছে তার ঐশ্বর্যের খবর জানায়। ‘যেখানে খুশি যাবার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে ফকির। সেই ক্ষমতা অর্জনের প্রত্যাশী অমলের তাই প্রাণের মানুষ ফকির। ফকির আসলে ছদ্মবেশী ঠাকুরদা এবং অমলের পরিতৃপ্তির জন্যই এই ছদ্মবেশ। অমলও নদী পাহাড় সমুদ্রের সব বাধা তুচ্ছ করে ফকিরের সাথে চলে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

‘ডাকঘরে’ দুইজন রাজার অনুপস্থিত অস্তিত্ব রয়েছে। একজন ডাকঘর স্থাপন করে তার অস্তিত্বের ও ক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে। অন্যজন মহাজগতের রাজা। তিনি অনুপস্থিত কিন্তু নিত্য তাঁর ডাক আসে তাঁরই ডাকহরকরার মাধ্যমে। তাঁর চিঠি আসে প্রকৃতির মধ্যে অস্তিত্বশীল বস্তুরাজি ঝড়-জল-বৃষ্টি, বাতাস-বিদ্যুৎ, আকাশের রং, ঋতুবৈচিত্র্য, ফুলের রং, পাখি, সাগর-নদী, পাহাড়-পর্বত-উপত্যকার আঁকাবাঁকা পথ, সে চিঠি তারায় তারায় ঝলসে ওঠে। সে চিঠিই অমলের জীবনীশক্তি প্রাণদায়িনী শক্তি।

বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে মানুষ ৩ধরনের সম্পর্কে জীবন যাপন করে । সে সম্পর্ক তৈরীর মধ্য দিয়ে সে মানুষ কিংবা অমানুষ হয়ে উঠার জার্নি শুরু করে।

১।মানুষের সাথে প্রকৃতির সম্পর্ক
২। মানুষের সাথে স্রষ্টার সম্পর্ক
৩। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক

এই নাটকের নায়ক অমল চরিত্রে ৩টি বৈশিষ্টই লক্ষ্য করা যেতে পারে । প্রথম স্তরে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার আগ্রহ তার চরিত্রে লক্ষ্য করা যায়। দ্বিতীয় স্তরে রাজার, অরূপ বা স্রষ্টার জন্য উদ্বেগ । দ্বিতীয়টি যে প্রথমটির পরিণাম তা কবি সুস্পষ্টভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন । কবি লিখেছেন –

“ Amal represents the man whose soul has received the call of the open road…”

অমলের বিভিন্ন উক্তির মধ্য দিয়ে এই কথাটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে সে পণ্ডিত হতে চায় না । সে বলেছে—

“ আমি যা আছে সব দেখব – কেবলই দেখে বেড়াব।”

“ আমার ভারি ইচ্ছে করছে ঐ সময়ের সঙ্গে চলে যাই – যে দেশের কথা কেউ জানে না সেই অনেক দূরে ।”

অমলের যে অসুখ তাও প্রকৃত বাস্তব ব্যাধি নয় আত্মার বন্ধনপীড়নের ব্যাধি । শাসনের চাপে ক্লান্ত পীড়িত আত্মার ক্রন্দন ও তার মুক্তির ইঙ্গিত নাটকে তুলে ধরা হয়েছে । লৌকিক কবিরাজের চিকিৎসাশাস্ত্র জ্ঞান আমাদের জানিয়ে দেয় যে অমল মৃত্যুপথেই চলছে । তাই রাজকবিরাজ এসে অমলের ঘরের সব দরজা জানালাগুলি খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে সুস্থবোধ করে । তার ব্যাথা-বেদনার অবসান ঘটে এবং অমল ঘুমিয়ে পড়ে । তাই রাজকবিরাজের মুখে শোনা যায় –

“এলো , এলো , ওর ঘুম এলো । …আকাশের তারাটি থেকে আলো আসুক , ওর ঘুম এসেছে। ”

প্রসঙ্গত অমলের এই ঘুমিয়ে পরার সাথে রবীন্দ্রনাথের একটি গানের অনুসঙ্গ আমাদের মনে পরে –

“এই আকাশে আমার মুক্তি আলোয় আলোয়
আমার মুক্তি ধুলায় ধুলায় ঘাসে ঘাসে ।।”

ছোট বড় কর্মের মধ্য দিয়ে যা অনন্তে পরিব্যাপ্ত। অমল সমগ্র পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছে অন্য চরিত্রগুলোকে অবলম্বন করে। মৃত্যু অনিবার্য জেনেও পৃথিবীর প্রতি যে মমত্ববোধ তা প্রকাশ পেয়েছে। প্রহরী, দইওয়ালা, সুধা, ছেলের দল তারা সকলে চলতি পথের পথিক। পৃথিবীর প্রতি আকর্ষণ তীব্র ছিল বলে অমল এসব গৃহীত অথচ মুক্ত পৃথিবীতে স্বচ্ছন্দ বিচরণশীল মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চেয়েছেন। যারা ক্ষণিক কথা বলেই দূর দেশে চলে যায়।

রবীন্দ্রনাথ ৩ প্রকার চরিত্রের উপস্থাপন করছেন।
১। কবিরাজ, মোড়ল— সামাজিক বিধি নিষেধের প্রতীক। যা মূলত অর্থহীন। এরা অমলকে ভালোবাসে না।
২।মাধবদত্ত, দইওয়ালা, সুধা, বালক, প্রহরী—জীবনের স্বাদ উপভোগ করে সামাজিক
বিধি নিষেধের গণ্ডি মেনে নিয়ে এরা অমলকে ভালোবাসে।
৩।ঠাকুরদা, কবিরাজ —সামাজিক বিধি নিষেধের বাইরে জগতের ব্যাপক ক্ষেত্রে এর অবস্থান করে। বৃহৎ অসীমের রূপ এরা উপভোগ করে। এরা অমলকে বুঝে।

অমলের নানা উক্তিতে অচিনপুরের ইশারা রয়েছে। যারা বিষয়ী, সংসারী তথা মাধব দত্ত বা পঞ্চানন মোড়ল – এর মত লোকেরা সুদূরের আহ্বান, আজানার ইঙ্গিত শুনতে পায় না, দেখতেও পায় না । তাই রাজার কাছ থেকে চিঠি আসবে শুনে মাধব দত্ত আতঙ্কিত হয় । তার দৃষ্টি সংকীর্ন ও সীমিত । অমল যে লোক-কল্পনাতীতের ডাকঘর থেকে চিঠি পেতে পারে একথা বিশ্বাস করতে না পেরে মোড়ল তাকে নিয়ে ঠাট্টা করে বলে –

“ রাজা তোমাকে চিঠি লিখবে ! তা লিখবে বৈকি ! তুমি যে তার পরম বন্ধু ! …”

নাটকের গূঢ় তত্ত্বের ভাষ্যকার হলেন ঠাকুরদাদা । তার দৃষ্টি স্বচ্ছ । তিনিও অনুভব করতে পারেন সুদূরের আহ্বান । ঠাকুরদাদার কল্পনাশক্তিও অমলের কাছে হার মেনেছে ,-

“অমন নবীন চোখ তো আমার নেই। তবু তোমার দেখার সঙ্গে সঙ্গে আমিও দেখতে পাচ্ছি ।”

অমলের সঙ্গে আরো তিনটি চরিত্রের যোগবেশ নিবিঢ় । দইওয়ালা , প্রহরী ও সুধা । দইওয়ালার দই বেচার সুর ও নানা জায়গায় তার ঘুরে বেড়ানোর স্বাধীনতা অমলকে মুগ্ধ করে । প্রথমে বিরক্ত হলেও পরে অমলকে না ভালবেসে পারে না দইওয়ালা । দই বেচারও যে কত সুখ সে অমলের সঙ্গে আলাপে বুঝতে পারে,-

“ … আমার কোন লোকসান হয় নি । দই বেচতে যে কত সুখ সে তোমার কাছে শিখে নিলুম ।”

আমাদের নগর জীবনে আমরা যেন সকল কাজ ও ব্যাস্ততার মধ্যে ডুবে থেকে জীবন কে এক অদৃশ্য বেড়াজালে বন্দী করে রেখেছি জগতে যে আরও অনেক কিছু দেখার আছে আমাদের এই গণ্ডি ছাড়াও তা আমরা অনেকেই ভুলে গেছি। কেউ কেউ পণ্ডিত হয়ে যাই, কেউ কেউ জীবন সংসার নিয়ে ব্যাস্ত, কেউ কেউ ব্যাবসা বানিজ্য নিয়ে ব্যাস্ত। এসবের খাতিরে আমরা যেখানেই যাই আমাদের চোখ কখনো পাশের সৌন্দর্যে চোখ পরে না।এজন্যই হয়তো আমরা আমাদের নিজ নিজ পেশাতেও আনন্দ পাই না। ডাকঘর নাটকে দইওয়ালা, প্রহরী, সুধা সকলেই তাদের পেশার বেড়াজালে বন্দী।কেউ ই তাদের পেশার সৌন্দর্য অনুধাবন করতে পারে নাই।কিন্তু অমল সে ক্ষুদ্র পেশাতেও সৌন্দর্য খুঁজে পেয়েছে।

প্রহরী যেন এখানে সময় তথা কালের প্রতীক হয়ে উঠেছে ; “ঘণ্টা এই কথা সবাইকে বলে , সময় বসে নেই , সময় কেবলই চলে যাচ্ছে ।” সময় কোথায় যায় ?
অমলের শিশুসুলভ প্রশ্নের উত্তরে সে জানায় – “ সে দেশে সবাইকে যেতে হবে ।” প্রহরী এখানে কালের যাত্রার ব্যাখ্যায় মৃত্যুর দেশের ইঙ্গিত দিতে গিয়ে জানায় “ সময় হলে তবে ঘণ্টা বাজিয়ে দিই।”

‘ডাকঘর’ নাটকে আত্মার স্বাধীনতা বনাম শাসন নিষেধের দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে। জীবন ও মৃত্যুর দ্বন্দ্বে জীবনজয়ী হয়েছে। পরিশেষে, সীমার মধ্যে অসীমের সর্বময় প্রকাশ এ-নাটকের কেন্দ্রীয় সত্য হয়ে উঠেছে। “আমি বালকের শিয়রের কাছে বসব ওর ঘুম আসছে।” ঠাকুরদার এ-উক্তির পর মাধবদত্তের উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে তার এক প্রশ্নের উত্তরে ঠাকুরদা মাধবদত্তকে অবিশ্বাসী বলে তিরস্কার করেছে। সুধা অমলের জন্য ফুল নিয়ে এসে তাকে ডাকলে রাজকবিরাজ বলেছে “ও ঘুমিয়ে পড়েছে।” এবং “বোলো যে, ‘সুধা তোমাকে ভোলেনি।” এই ছোট্ট সংলাপের মধ্য দিয়ে নাটক শেষ হয়েছে। তাই বলা সংগত যে, এ-নাটকে মুক্তির কথা আছে মৃত্যুর কোনো প্রত্যক্ষ ঘটনা নেই। এতদ্‌বিষয়ে নাট্যকার রবীন্দ্রনাথেরও স্বীকৃতি মেলে, ১৯৩৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির এক চিঠি সূত্রে জানা যায় তিনি লিখেছেন—

“ডাকঘরের অমল মরেছে বলে সন্দেহ যারা করে তারা অবিশ্বাসী-রাজবৈদ্যের হাতে কেউ মরে না–কবিরাজটা ওকে মারতে বসেছিল বটে।”

সংক্ষিপ্ত আলোচনার শেষে এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, ‘ডাকঘর’ নাটকে রূপকে সংকেতে রাবীন্দ্রিক মৃত্যুচেতনা এক বিশিষ্টরূপ লাভ করেছে। সেই চেতনার মর্মে রয়েছে জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার অবিচ্ছেদ্য রূপে একাত্ম হওয়া। পরমাত্মার সাথে জীবাত্মার কাঙ্ক্ষিত মিলন।