স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:
বেইজিংয়ের বিশাল Great Hall of the People– এ বুধবার যেন আরেকটি ভূরাজনৈতিক দৃশ্যপটের জন্ম হলো। এক পাশে Xi Jinping, অন্য পাশে Vladimir Putin— দুজনের কণ্ঠে ছিল একই সুর: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য প্রয়োজন, আর সেই ভারসাম্যের কেন্দ্রে থাকবে চীন-রাশিয়ার কৌশলগত বন্ধন।
দুই নেতার যৌথ বিবৃতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে Iran প্রসঙ্গ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার সমালোচনা করে তারা বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে। একই সঙ্গে তারা সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু ইরানকে সমর্থন নয়; বরং এটি পশ্চিমা প্রভাবের বিপরীতে একটি বিকল্প শক্তি-অক্ষের রাজনৈতিক ভাষ্য।
বৈঠকের আরেকটি বড় দিক ছিল জ্বালানি সহযোগিতা। বিশেষ করে আলোচনায় উঠে আসে Power of Siberia 2 গ্যাস পাইপলাইনের বিষয়টি। রাশিয়ার বিশাল গ্যাসভাণ্ডার সরাসরি চীনের শিল্প ও নগর অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে পারে এই প্রকল্প।ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া এখন পূর্বমুখী অর্থনৈতিক পথ খুঁজছে।
অন্যদিকে চীন দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। ফলে এই পাইপলাইন কেবল অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, চুক্তির কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে এই প্রকল্প বাস্তব রূপ পেলে এশিয়ার জ্বালানি মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।যৌথ বিবৃতিতে জাপানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিরও সমালোচনা করা হয়েছে। চীন ও রাশিয়া বলছে, জাপানের পুনরায় সামরিক শক্তি বাড়ানো আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তবে জাপানের অবস্থান ভিন্ন। তারা দাবি করে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পূর্ব এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণেই নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।শি-পুতিন বৈঠক আবারও স্পষ্ট করলো— বিশ্ব এখন ধীরে ধীরে নতুন মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা, অন্যদিকে চীন-রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা। মাঝখানে রয়েছে ইরান, ইউক্রেন, তাইওয়ান ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জটিল কূটনীতি।বেইজিংয়ের এই বৈঠক তাই কেবল দুই নেতার আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ নয়; বরং এটি ছিল ভবিষ্যৎ বিশ্ব রাজনীতির এক প্রতীকী ঘোষণা— যেখানে অর্থনীতি, জ্বালানি, সামরিক কৌশল ও কূটনীতি একই সুতোয় বাঁধা।
এইদিকে Donald Trump বুধবার বলেছেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো সমঝোতা না হলে তিনি সামরিক হামলার নির্দেশ দিতেও প্রস্তুত আছেন।তার ভাষায়— “আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর আঘাত হেনেছি, তবে হয়তো আরও কঠোরভাবে আঘাত করতে হতে পারে— যদিও হয়তো সেটার প্রয়োজন নাও হতে পারে। কিন্তু আমরা কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেব না, যাতে তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্য, Israel, পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং পরে সেটার প্রভাব এখানে পর্যন্ত আসে। এটা হতে দেওয়া হবে না।”
