বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই, হতাশ ডি ভিলিয়ার্স।

লেখক: ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

স্পোর্টস ডেস্ক:

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ডামাডোল শুরু হতে না হতেই বড় এক ধাক্কা খেয়েছে ক্রিকেটবিশ্ব। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। আইসিসি বিসিবির ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে বাংলাদেশের এই অনুপস্থিতিকে ক্রিকেটের জন্য বড় হতাশা হিসেবে দেখছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্স।নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘এবি ডি ভিলিয়ার্স ৩৬০’-এ সাম্প্রতিক এক ভিডিওতে এই প্রোটিয়া তারকা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ডি ভিলিয়ার্স মনে করেন, কোনো টুর্নামেন্ট এমন পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয় যেখানে একটি দলকে সরে দাঁড়াতে হয়।

তিনি সরাসরি কোনো পক্ষ না নিলেও ক্রিকেটের মাঝে রাজনীতির অনুপ্রবেশকে দায়ী করেছেন। ডি ভিলিয়ার্স বলেন, আমি কারও পক্ষ নিতে চাই না। এটা রাজনৈতিক ইস্যু এবং তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। আমার কাছে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্যও নেই। মন্তব্য করার মতো জানাশোনাও নেই আমার। তবে এটা বলতে পারি, ব্যাপারটা কখনোই ওই পর্যন্ত যাওয়া উচিত নয়, যেখানে একটি দলকে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। খারাপ লাগছে। খেলাটির জন্য এটা হতাশার বিষয়। এমনটা কখনো হওয়া উচিত নয়।ডি ভিলিয়ার্স আরও বলেন, জানি না কারা এর নিয়ন্ত্রক, কারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের এসব সমাধান করা উচিত। এ নিয়ে আগেও অনেক কথা বলেছি। ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতির জড়িয়ে পড়াকে আমি ঘৃণা করি এবং এই কারণেই ব্যাপারটা এ পর্যন্ত এসেছে। এটা খুবই দুঃখজনক।এই সংকটের মূলে রয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা। গত ৩ জানুয়ারি ভারতীয় উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর হুমকির মুখে টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় বিসিসিআই।

একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তাই যেখানে নিশ্চিত নয়, সেখানে পুরো দল, সমর্থক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে ভেন্যু বদলের অনুরোধ জানায় বিসিবি। বাংলাদেশের দাবি ছিল, তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক কিন্তু ২১ জানুয়ারি আইসিসির বোর্ড সভায় ভোটাভুটিতে অধিকাংশ সদস্য দেশ ভেন্যু অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দেয়।আইসিসির অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় বাংলাদেশ। ফলে ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া ২০ দলের এই বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’তে বাংলাদেশের জায়গায় খেলবে স্কটল্যান্ড। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এই বিতর্ক এবং বাংলাদেশের মতো একটি উদীয়মান ক্রিকেট শক্তির অনুপস্থিতি আসন্ন বিশ্বকাপকে কিছুটা হলেও মøান করে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেক ক্রিকেটবোদ্ধারা।এদিকে বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহারের ঘটনায় আইসিসির ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের ব্যাটিং কিংবদন্তি মোহাম্মদ ইউসুফ। বৈশ্বিক ক্রিকেটের নীতিনির্ধারণী সংস্থাকে একহাত নিয়ে তিনি অভিযোগ তুলেছেন ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণের। বিশাল দর্শকভিত্তি থাকা একটি দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগকে আইসিসি কীভাবে এত সহজে উপেক্ষা করতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই তারকা ব্যাটার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে ইউসুফ বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় দর্শকশক্তির একটি চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তার মতে- বৈশ্বিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবদান অনস্বীকার্য হলেও আইসিসি এখানে ‘নির্বাচিত সহনশীলতা’ প্রদর্শন করেছে। ইউসুফ তথ্য দিয়ে দেখান যে, ক্রিকেটবিশ্বের অন্তত ১০টি দেশের সম্মিলিত দর্শকসংখ্যার সমান দর্শক রয়েছে একা বাংলাদেশে।ইউসুফের ভাষ্য- নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, স্কটল্যান্ড, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান এই ১০ দেশের সম্মিলিত ক্রিকেট দর্শকসংখ্যা প্রায় ১৭৮ মিলিয়ন। সেখানে একা বাংলাদেশ থেকেই আসে প্রায় ১৭৬ মিলিয়ন দর্শক। অর্থাৎ, একা একটি দেশ যখন পুরো বিশ্বের ১০টি দেশের সমান দর্শক জোগান দেয়, তখন তাদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা না করাকে আইসিসির বড় ব্যর্থতা।ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, মোহাম্মদ ইউসুফের এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় গুরুত্ব এবং বাজারের বিশালতাকে আবারও সামনে নিয়ে এলো। মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশ না থাকা মানে কেবল একটি দল না থাকা নয় বরং ক্রিকেটের একটি বিশাল বাজার ও আবেগকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেওয়া- এমনটাই মনে করছেন এই পাকিস্তানি কিংবদন্তি।