জবি প্রতিনিধি:
দুই দিন ধরে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে অবশেষে রাজধানীর চানখারপুলের একটি ছাত্র মেসের কক্ষ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অনিক চন্দ্র পালের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বংশাল থানাধীন বি কে গাঙ্গুলী লেনের ওই মেস থেকে অনিককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অনিক চন্দ্র পাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তার গ্রামের বাড়ি সিলেটে। বর্তমানে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
একই মেসের সদস্য জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, গত সোমবার থেকেই অনিকের তেমন কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার দিকে অনিকের এক ব্যাচমেট ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মেসে তার কক্ষে গিয়ে দেখতে বলেন।
পরে তারা দুজন অনিকের কক্ষের দরজায় দীর্ঘক্ষণ কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তাদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে অনিককে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।
জয় ভূঁইয়া বলেন, “দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে অনিককে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায়। এরপর দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
সহপাঠী ও মেস সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর দুই দিন আগে অনিকের সঙ্গে তার প্রেমিকার সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। বিচ্ছেদের পর তিনি মেসে একা থাকতেন এবং চুপচাপ হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান তারা। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল। তিনি বলেন, “স্টুডেন্টরা আমাকে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই। কিন্তু ততক্ষণে আমাদের স্টুডেন্ট আর বেঁচে ছিল না।”
সহকারী প্রক্টর আরও বলেন, “আমি ওর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ওর বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আসার পর মেডিকেল ও থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ওর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।”
এ বিষয়ে বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “বিষয়টি এখনো আমরা জানি না। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জেনে আপনাকে বলতে পারব।”
পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
