জবির নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রশংসায় ভারতীয় হাইকমিশনার।

লেখক: আল ফাতিহা নুহা
প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে

জবি প্রতিনিধি:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিনয় ও মঞ্চ পরিবেশনার প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী। শিক্ষার্থীদের অভিনয় দেখে তাদের শিক্ষার্থী নয়, বরং পেশাদার শিল্পী মনে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চার দিনব্যাপী নাট্য প্রদর্শনীর সমাপনী আয়োজনে ‘ধাবমান’ নাটকের প্রদর্শনী শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

নাট্য প্রদর্শনী দেখে অনুভূতি ব্যক্ত করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, “এই নাটকে একদম মস্ত বড় ফিলোসফিক্যাল মেসেজ ছিল, মজা ছিল, আর অসাধারণ মিউজিক ছিল।”

নাটকের সঙ্গে দর্শকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “নাটক ওইটাই হয়, যা আমরা যখন দেখি, আমরা ভুলে যাই যে এটা নাটক হচ্ছে। এটা মনে হচ্ছে একটা সত্যি কিছু হচ্ছে।” নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যে দর্শকদের হাসি ও আবেগের প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি দেখছিলাম অনেকটা কান্নার দৃশ্য, চোখে জলও বেরচ্ছিল। এটাই হচ্ছে আসল জীবন।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিনয়ের প্রশংসা করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আপনারা মনে হচ্ছে না স্টুডেন্ট, এমনি মনে হচ্ছে প্রফেশনাল।” তিনি জানান, নাটক দেখতে চাওয়ার কথা তিনি তাঁর স্টাফদের জানিয়েছিলেন এবং এদিন সেই সুযোগ পেয়েছেন। প্রদর্শনী দেখতে এসে তাঁর ভালো লেগেছে বলেও জানান তিনি।

ভবিষ্যতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের নাটক দেখতে আবারও আসার আগ্রহ প্রকাশ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, “যখন আপনার নাটক হবে আমাকে নিশ্চয়ই বলবেন, আমি নিশ্চয়ই আসবো।” পরে তিনি আয়োজকদের শুভকামনা জানান।

নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের উদ্যোগে এ চার দিনের নাট্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর মঞ্চস্থ হয় ‘যৌবতী কন্যার মন’ এবং ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর মঞ্চস্থ হয় ‘ধাবমান’। ‘যৌবতী কন্যার মন’ নির্দেশনা দেন আফরিন হুদা তোড়া এবং ‘ধাবমান’ নির্দেশনা দেন কৃপাকণা তালুকদার।

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা, সহকারী অধ্যাপক কামলউদ্দিন কবির, সহকারী অধ্যাপক ক্যাথরিন পিউরিফিকেশনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাট্যব্যক্তিত্বরা।

সমাপনী বক্তব্যে নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা চার দিনের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।

চার দিনের এ আয়োজনে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিনয় ও প্রযোজনার মাধ্যমে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের নাট্যকর্ম দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে ধারাবাহিক এ প্রদর্শনী বিভাগের শিক্ষার্থীদের মঞ্চচর্চা ও প্রযোজনাভিত্তিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।