নিজস্ব প্রতিনিধি:
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে দেশের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি সমন্বিত ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। পিটিআই-এর দাবি, এই ষড়যন্ত্রে তার নিজের দলেরও অনেকে জড়িত। তবে দলের অন্য নেতারা বলছেন, এ ধরনের প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগখাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গানদাপুর অভিযোগ করেছেন যে, গভর্নরের শাসন জারি করে ইমরান খানকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর একটি পরিকল্পনা চলছে। তিনি এটিকে একটি ‘ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
পিটিআই-এর অভ্যন্তরে ভাঙনের অভিযোগপিটিআই-এর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেত্রী আজমা বুখারি এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে। তবে আজমা দাবি করেছেন, ইমরানকে তার নিজের বোন আলিমা খান এবং দলের সদস্যরা কোণঠাসা করে ফেলেছেন। আজমার ভাষ্যমতে, আলিমার সঙ্গে পিটিআই-এর সোশ্যাল মিডিয়া ইউনিটও ইমরান খানের বিরুদ্ধে কাজ করছে। আজমা বুখারি বলেছেন, “যিনি (ইমরান) একদিন নওয়াজ শরিফকে ‘সাইডলাইন’ করার চেষ্টা করেছিলেন, আজ তিনি নিজেই তার ঘরে ও দলে অবাঞ্ছিত হয়ে গেছেন।
“আজমার আরও দাবি, পিটিআই এখন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তিনটি এবং প্রাদেশিক পর্যায়ে আরও তিনটি ভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত। খাইবার পাখতুনখোয়ায় একদিকে জুনায়েদ আকবর, অন্যদিকে আতিফ খান এবং আরেকটি গ্রুপ বিদ্রোহী সদস্যদের নিয়ে গঠিত।পিটিআই-এর তীব্র প্রতিক্রিয়াআজমার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পিটিআই মুখপাত্র শেখ ওয়াকাস আকরাম বলেন, ইমরান খানকে বাদ দেওয়ার এই ষড়যন্ত্রে সরকার নিজেই ‘অপমানিত ও নগ্ন’ হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “আল্লাহর রহমতে ইমরান খানকে মাইনাস নয়, বরং তার অবস্থান আরও কয়েকগুণ শক্তিশালী করা হয়েছে। জাতি তাকে সবার ওপরে স্থান দিয়েছে।”ওয়াকাস আকরাম আরও দাবি করেন যে, গত তিন বছরে একাধিকবার পিটিআইকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু সবই ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, “ইমরান শুধু পিটিআই-এর নেতা নন, তিনি জাতির নেতা। তার জনপ্রিয়তা দমন-পীড়নের মধ্যেও বেড়েই চলেছে।” পাঞ্জাব সরকারের দুর্নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, পাঞ্জাবের এই ‘চুরি করা ম্যান্ডেট’ এখন এক লাখ কোটি রুপি লোপাটের কলঙ্কে কলুষিত। তিনি আজমা বুখারিকে ‘পানামা কুইনের’ অধীনে কীভাবে জনগণের সম্পদ লুট হচ্ছে তা বলার আহ্বান জানান।এদিকে, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী গানদাপুর বলেন, ইমরান খানই দলের নেতা। যদি তিনি বলেন, তাহলে তিনি এক মিনিটেই এই সরকার ছেড়ে দেবেন। তিনি বলেন, এই সরকারটি তারই, এবং তাকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা মানে দলের অস্তিত্বের ওপর আঘাত হানা।
গানদাপুর অভিযোগ করেন যে, ইমরানের পরামর্শ ছাড়াই বাজেট পাশ করানো হয়েছিল এবং পরিকল্পিতভাবে দলের ভেতরের আলোচনা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনা বাধাগ্রস্ত করে সরকার হাইজ্যাক করার একটি প্রচেষ্টা ছিল, যা ব্যর্থ হয়েছে। গানদাপুর আরও বলেন, খাইবার পাখতুনখোয়ায় অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা জারি করে গভর্নরের শাসন চাপিয়ে দেওয়ার একটি ষড়যন্ত্র চলছে। এটি মূলত ইমরান খানকে বাজেট প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার কৌশল।
তিনি জানান, ইমরান খান মুক্তি পেলেই দলের ভেতরের ষড়যন্ত্রকারীরা জনসম্মুখে উন্মোচিত হবেন এবং কারা ইমরানকে দুর্বল করতে চাইছে তা জনগণ দেখতে পাবে ও তাদের বিচার করবে।পিটিআই কি বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে?ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই বলছেন যে, পিটিআই একাধিক গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দলের কৌশলগত সংকট কেন্দ্র ও প্রাদেশিক পর্যায়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পিটিআই-এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং বহিরাগত চাপ – উভয়ই একসঙ্গে কাজ করছে। ইমরান খানের অনুপস্থিতিতে দলটি নেতৃত্বহীন অবস্থায় নানা চাপ মোকাবিলা করছে এবং তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
