আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি :
হাটবোয়ালিয়া ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে জীবিকার তাগিদে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন জাহারুল। কে জানত—সেই যাত্রাই হয়ে উঠবে জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দিন! আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া এলাকায় অজ্ঞান পার্টির নির্মম ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়েছেন এক অসহায় পাখিভ্যান চালক।
বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে হাটবোয়ালিয়া–চুয়াডাঙ্গা সড়কের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের পাশে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
ভুক্তভোগীর নাম জাহারুল ইসলাম (৫৭)। পিতা—বাসেদ মীর। মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাওট গ্রামের এই মানুষটি দীর্ঘদিন ধরে পাখিভ্যান চালিয়ে কোনোরকমে সংসারের হাল ধরেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও ভাড়া মারার উদ্দেশ্যে পাখিভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামেন জাহারুল। পথে অচেনা কিছু মানুষের সঙ্গে আলাপ—বিশ্বাসের ফাঁদে পা দেন তিনি। এক পর্যায়ে চেতনানাশক মিশ্রিত কিছু খাইয়ে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। মুহূর্তেই নিঃশেষ হয়ে যায় তার সব স্বপ্ন—ছিনিয়ে নেওয়া হয় একমাত্র অবলম্বন পাখিভ্যানটি।
বিকেলের দিকে পথচারীরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে রাস্তায় নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে ছুটে আসে। অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকা মানুষটির নিঃশ্বাস তখনো চলছিল—সঙ্গে ছিল ভয়ংকর নীরবতা আর শঙ্কা। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
বর্তমানে কুষ্টিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন জাহারুল ইসলাম।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি জ্ঞান ফিরে পাননি।
এই ঘটনায় হাটবোয়ালিয়া এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ। সাধারণ মানুষ বলছেন, রাস্তায় বের হলেই এখন জীবনের নিরাপত্তা নেই। অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্যে যেকোনো মুহূর্তে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষরা।
স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সড়কপথে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
