গ্রেপ্তার প’র্ন তারকা যুগলকে ঘিরে নতুন রহস্য ফাঁস।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশজুড়ে আলোচিত সেই পর্ন তারকা যুগলকে অবশেষে বান্দরবান থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই দম্পতি নিয়মিত বিদেশি একটি ওয়েবসাইটে পর্ন ভিডিও আপলোড করতেন। তাদের পরিচালিত ওয়েবসাইটটি বিশ্বের জনপ্রিয় পর্ন সাইটগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানীয় হয়ে ওঠে।

সিআইডির একটি বিশেষ টিম বান্দরবান থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানান তিনি।তদন্তে জানা গেছে, এই যুগল বাংলাদেশে বসেই ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা ও আপলোড করত। এর মাধ্যমে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছিল।বাংলাদেশের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ অনুযায়ী, পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও প্রচার একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই যুগল শুধু নিজেরাই অপরাধে যুক্ত ছিল না, বরং অন্যদেরও এতে উৎসাহিত করছিল, যার মাধ্যমে দেশে একটি পর্ন ভিডিও নির্মাণ ও প্রচারের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।সম্প্রতি “দ্য ডিসেন্ট” নামের একটি সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই যুগলের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুগলের ২৮ বছর বয়সী নারী সদস্যটি নিজেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাংলাদেশের এক নম্বর মডেল’ হিসেবে পরিচয় দিতেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, ওই নারী মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা। কিন্তু ওই ঠিকানায় গেলে জানা যায়, এটি তার প্রথম স্বামীর বাড়ি, যিনি পেশায় একজন জেলে। তার শ্বশুর নিশ্চিত করেন, তিনি একসময় তাদের পুত্রবধূ ছিলেন।তিনি আরও জানান, “একদিন হঠাৎ সে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। আট বছর হয়ে গেছে, আর ফিরে আসেনি।”তদন্তে আরও জানা যায়, ওই নারীর বাবার বাড়ি একই উপজেলার অন্য একটি গ্রামে। পরিবারের ভাষ্য, “গত এক বছর ধরে আমরা তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখিনি। আমরা তাকে ত্যাজ্য করেছি।”অন্যদিকে, পুরুষ সদস্যটির জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাবাসী।

স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “সে অন্ধকার জগতের লোক। ওর কারণে আমাদের গ্রামের নাম খারাপ হচ্ছে।”মো. ফারুক নামে এক অটোরিকশা চালক প্রতিবেশী জানান, “তার পুরো পরিবারই নানা অপরাধে জড়িত। এলাকায় তারা অপরাধী পরিবার হিসেবে পরিচিত।”স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মফিজ বলেন, “তার বাবা একসময় রিকশা চালাতেন। কিন্তু এখন তাদের আচার-আচরণ দেখে মনে হয়, তারা যেন কোটি টাকার মালিক।”