ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধের ইচ্ছে নেই, তবে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

লেখক: ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা রাশিয়ার নেই, তবে পরিস্থিতি সে রকম দাঁড়ালে মস্কো যেকোনো সংঘাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্প্রতি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্তোরে এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাবের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের পর তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তবে একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার প্রতি সমর্থন জানান রুশ প্রেসিডেন্ট।

পুতিন সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যদি কখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়, তবে সেই ভয়াবহ সংঘাত থেকে কোনো পক্ষই বিজয়ী হয়ে বের হতে পারবে না। ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমরা প্রস্তুত, কিন্তু ইউরোপের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ চাই না। তবে তাদের মধ্যে কেউ যদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, তাহলে তারা তা নিতে পারে। পুতিন আরও জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করার যে লক্ষ্য পশ্চিমারা নির্ধারণ করেছিল, তারা তাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে এবং সংঘাতের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা ইউরোপীয় দেশগুলোর ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়, যাকে সঠিক পথে এগোনোর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন পুতিন।তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সঙ্গে আগামী দফার শান্তি আলোচনাকে কাজে লাগিয়ে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণ পুরোপুরি বন্ধ করার সুযোগ খুঁজছে মস্কো। পুতিন শুরু থেকেই ন্যাটোর সামরিক বিস্তারকে ইউক্রেন যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন। গুঞ্জন রয়েছে, ইউরোপে ন্যাটোর সেনাবল কমাতে পুতিন পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ফিনল্যান্ড থেকে ন্যাটো সেনা প্রত্যাহারের দাবি তুলতে পারেন।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপজুড়ে ড্রোন বিস্ফোরণ ও সাইবানের মতো নানা ধরনের হাইব্রিড হামলার মাধ্যমে রাশিয়া ন্যাটোর সক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদনে শঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, ন্যাটোর ঐক্য যাচাই করতে রাশিয়া হয়তো বাল্টিক অঞ্চলের ছোট কোনো দেশে স্থল অভিযান বা সাইবার হামলা চালিয়ে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

রাশিয়ার এমন গতিবিধির প্রেক্ষাপটে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্যও। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ব্রিটেনের শত্রুপক্ষ দেশটিতে আঘাত হানার মতো সামরিক সক্ষমতা তৈরি করে ফেলতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে যুক্তরাজ্যকে এখন থেকেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে হবে, যাতে প্রতিপক্ষ হামলা চালানোর আগে বারবার চিন্তা করতে বাধ্য হয়।তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ