আলমডাঙ্গা, চুয়ায়াডাঙ্গা:
ফসলের মাঠের কাজ এখন উঠে এসেছে ব্যস্ততম পাকা রাস্তার উপর। কৃষকদের অসাবধানতা ও স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রধান সড়কের ওপর অবৈধভাবে ধান মাড়াইয়ের কাজ চলছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকি। ধান মাড়াইয়ের যন্ত্র (ট্র্যাক্টর বা পাওয়ার টিলার) ও বিপুল পরিমাণ ধান পাকা রাস্তার একটি বড় অংশ দখল করে রাখছে।
মাড়াইয়ের সময় ধানের খোসা, বিচালি এবং শস্যের কণা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে রাস্তাটিকে অত্যন্ত পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক করে তুলছে। বিশেষ করে দ্রুত গতিতে আসা মোটর সাইকেল, ইজিবাইক এবং অন্যান্য যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। মাড়াইয়ের কাজ চলার সময় সৃষ্ট ধুলোর কারণে চারপাশের পরিবেশ অস্বচ্ছ হয়ে যায়, যা দূর থেকে আসা চালকদের জন্য দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছে। উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, যেমন আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গা সড়ক, আলমডাঙ্গা-কুষ্টিয়া সড়ক এবং গ্রাআলমডাঙ্গায় পাকা রাস্তার উপর অবৈধ ধান মাড়াইয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা : প্রাণহানির ঝুঁকি!মীণ সংযোগ সড়কগুলোর পাশে দেদারসে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছে। সারা বছর রাস্তা দখল করে কৃষকগোষ্ঠী কাজ করলেও ধান তোলার মৌসুমে এর তীব্রতা বেড়ে যায় বহুগুণে । এলাকার একাধিক বাসিন্দা ও পথচারী জানান, প্রতি বছরই ধান কাটা ও মাড়াইয়ের সময় একই দৃশ্য দেখা যায়। রাস্তার ওপর ধান মাড়াইয়ের ফলে যানবাহন চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।

গত শনিবার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাদেমাজু গ্রামে ইজিবাইকের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে ১৩ বছরের কিশোর মিহিন। তারা আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।আলমডাঙ্গার সচেতন মহল ও সড়ক ব্যবহারকারীরা দ্রুত এই অবৈধ কাজ বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, ফসলের মাঠে বা নির্ধারিত স্থানে ধান মাড়াইয়ের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং রাস্তার ওপর মাড়াইয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে এখনই প্রশাসনের কঠোর হওয়া জরুরি।
