ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) ও বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসকদের দাবির মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি নিজেই গণমাধ্যমের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তা গৃহীত হয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ইতোমধ্যে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন, যা বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ে। বৃহস্পতিবার তা গৃহীত হয় এবং আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে নতুন পরিচালক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি
চার মাস আগে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল থেকে অধ্যাপক ডা. গুরুদাস মন্ডলকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। সম্প্রতি তাকে পুনরায় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হলে চিকিৎসকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
১২ ফেব্রুয়ারি সকালে হাসপাতালের ৪০২ নম্বর কক্ষে চিকিৎসকরা একত্রিত হয়ে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গেলে, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের একটি দল তাদের ঘিরে ফেলে এবং হামলা চালায়। এই ঘটনায় তিনজন চিকিৎসকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা পরিচালক অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদের অনুগত ছিলেন। এর প্রতিবাদে চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ চালু রেখে নিয়মিত অস্ত্রোপচার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালক বদরুল আলমের অপসারণের দাবি জানান। তাদের অপসারণ করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের লাগাতার আন্দোলন ও চাপের মুখে অবশেষে অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ পদত্যাগ করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুত নতুন পরিচালক নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
