জাকির নায়েক ইস্যুতে দিল্লির আহ্বানে ঢাকার প্রতিক্রিয়া।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে ডা. জাকির নায়েক ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সম্প্রতি বলেছেন, বিতর্কিত ইসলামিক বক্তা ডা. জাকির নায়েক যদি ঢাকা সফরে আসেন, তাহলে বাংলাদেশ সরকারের উচিত তাকে গ্রেপ্তার করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া।শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, “ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্য আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিশ্বাস করি, কোনো দেশ অন্য দেশের অভিযুক্ত বা পলাতক ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।

”এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “জাকির নায়েক ভারতের পলাতক আসামি। আমরা আশা করি, যদি তিনি বাংলাদেশে আসেন, ঢাকাও যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ভারতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা রয়েছে। তাই যেখানেই থাকুক, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উচিত আমাদের উদ্বেগ বিবেচনা করা।”সম্প্রতি খবর আসে, ইসলামিক বক্তা ডা. জাকির নায়েক আগামী ২৮ নভেম্বর দুই দিনের জন্য বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। তিনি ঢাকায় একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান স্পার্ক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কর্ণধার রাজ বলেন, “সবকিছু ঠিক থাকলে ২৮ নভেম্বর ঢাকায় তার প্রথম বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ঢাকার বাইরেও কয়েকটি প্রোগ্রামের পরিকল্পনা রয়েছে।

”তবে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় জাকির নায়েকের সফর সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে আসছেন—এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।”উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ভারতের বিজেপি সরকার ডা. জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনে। ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার পর ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশেই তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর তিনি মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিও পান। মালয়েশিয়া এখনো তাকে প্রত্যর্পণ করেনি, তবে ভারত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার প্রত্যর্পণ চেষ্টায় রয়েছে।ঢাকা এখনও জাকির নায়েকের সফর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের মতে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।