গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শামীম ওসমানের বাড়ি!

লেখক: তুষার ইমরান
প্রকাশ: ১ বছর আগে

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া মোড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘বায়তুল আমান ভবন’ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর ভেকু ব্যবহার করে গুঁড়িয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতা এই ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে।

বিক্ষোভকারীরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয় এবং ভবনটি ধ্বংসের মাধ্যমে স্বৈরাচারবিরোধী বার্তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে। তাদের ভাষায়, স্বৈরাচারের কোনো চিহ্ন তারা এ দেশে রাখতে দেবে না এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে থাকা এক শিক্ষার্থী, আবির হোসেন, জানান যে তারা যেকোনো স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থান প্রতিহত করবে। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের প্রতীকী স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জেও এরই ধারাবাহিকতায় বায়তুল আমান ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর জেলা আহ্বায়ক নিরব রায়হান বলেন, তিনি এ ঘটনার বিষয়ে অবগত নন এবং তাদের সংগঠনের কেউ এতে জড়িত কিনা তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানও জানান, বিএনপির কোনো কর্মী এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এবং ভবনটি কারা ভেঙেছে, সে সম্পর্কে তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

জানা গেছে, বহু বছর ধরে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল এবং এখানে কেউ বসবাস করতেন না। একসময় এটি সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দাদা এম ওসমান আলী (ওরফে খান সাহেব ওসমান আলী) ও তার পরিবার ব্যবহার করতেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একেএম শামসুজ্জোহা, একেএম নাসিম ওসমান, একেএম সেলিম ওসমান এবং একেএম শামীম ওসমান আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এর আগে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভবনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। তবে এবার এটি পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলা হলো।