৪ হাসপাতাল ঘুরেও সাপে কাটা ছেলেকে বাঁচাতে পারলেন না বাবা।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে সাপে কাটার পর দুই জেলার চারটি হাসপাতালে নিলেও অ্যান্টিভেনম না থাকায় শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারেননি বাবা। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গ্রামে। নিহত সাকিবুল ইসলাম বড়পলাশবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র।শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে জানাজা শেষে সাকিবুলকে দাফন করা হয়। ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মো. আনিছুর রহমান অ্যান্টিভেনম না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশে একটি দোকানে মোবাইল ফোন চালানোর সময় হঠাৎ দোকানের ছাউনি থেকে বেরিয়ে এক বিষধর সাপ কামড় দেয় সাকিবুলকে। তবে সে মুহূর্তে সাকিবুল বিষয়টি বুঝতে পারেনি। পরে ব্যথা শুরু হলে তাকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। চিকিৎসক ক্ষত দেখে নিশ্চিত হন এটি সাপের কামড়।

এরপর তাকে অসুস্থ অবস্থায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।নিহতের বাবা ইসরাইল উদ্দীন বলেন, “চারটা হাসপাতালে নিয়ে গেছি— বালিয়াডাঙ্গী থেকে হরিপুর, সেখান থেকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল। সেখানেও ভ্যাকসিন না পেয়ে রাত ১০টার দিকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানেও ভ্যাকসিন নেই। দিনাজপুর মেডিকেলে নেওয়ার পথে আমার ছেলে কোলে মারা গেছে।

”ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মো. আনিছুর রহমান বলেন, “চাহিদা পাঠানোর পরও এন্টিভেনম দেওয়া হয়নি। পরে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ঔষধাগারেও এন্টিভেনম সংকট রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সরবরাহ আনার।”স্থানীয়রা জানান, সাকিবুলের মতো ঠাকুরগাঁও জেলায় গত দুই সপ্তাহে পীরগঞ্জের ৭ম শ্রেণির ছাত্র তারেক, রাণীশংকৈলের কলেজছাত্র মোকসেদ আলী, হরিপুরের গৃহবধূ সম্পা রানীসহ মোট ৫ জন বিষধর সাপের কামড়ে মারা গেছেন।