উদ্বোধন করা হলো যমুনা রেল সেতু, উভয় লেনে ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে ট্রেন

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ বছর আগে

বাংলাদেশের বৃহত্তম যমুনা রেলসেতু আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে টাঙ্গাইলের ইব্রাহিমাবাদ রেলস্টেশন উদ্বোধনের মাধ্যমে এ সেতুর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা সিনচি এবং জাইকার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক মি. ইতো তেরুয়াকি। রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ট্রেনে করে সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদ রেলস্টেশনে যান, যেখানে সেতু কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। যমুনা বহুমুখী সেতুর ৩০০ মিটার উজানে একটি পৃথক রেলসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০২০ সালের ৩ মার্চ। এরপর ২৯ নভেম্বর এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০২১ সালের মার্চে প্রথম পিলারের পাইলিং কাজ শুরু হয়।

প্রকল্পের শুরুর দিকে নির্মাণ ব্যয় নির্ধারিত হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭ লাখ টাকা, যা পরবর্তীতে বেড়ে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে ২৭.৬০ শতাংশ অর্থায়ন করা হয়, আর বাকি ৭২.৪০ শতাংশ জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ হিসেবে প্রদান করে।

বিশাল এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন করেছে জাপানি কোম্পানি ওটিজি ও আইএইচআই জয়েন্ট ভেঞ্চার। এছাড়া জাপান, ভিয়েতনাম, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশের মোট ৭ হাজারের বেশি কর্মীর ৪ বছরের প্রচেষ্টায় নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।

সেতুটিতে ৫০টি পিলার এবং প্রতিটি দুই পিলারের মাঝে মোট ৪৯টি স্প্যান রয়েছে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার হলেও উভয় পাশে ৭.৬৬৭ কিলোমিটার রেলওয়ে অ্যাপ্রোচ এমব্যাংকমেন্টসহ লুপ ও সাইডিংসহ মোট ৩০.৭৩ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে।

এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন পারাপারের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তখন পরীক্ষামূলকভাবে ৫০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেনটি ৬ মিনিটে সেতুটি পার হয়। তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর এখন থেকে উভয় লেনে ট্রেন সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে।