গুরুদাসপুর উপজেলা প্রতিনিধি:
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল ও সংলগ্ন নদ-নদীতে মা মাছ, পোনা মাছ এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে প্রায় সাত লাখ টাকা মূল্যের ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ১২০টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উপজেলার চাঁচকৈড় হাটে অভিযান শুরু হয়। সেখানে প্রথমে ২০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে আত্রাই, নন্দকুজা ও বেসানী নদী এবং চলনবিলের বিলশা, হরদমা ও পিপলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে চাঁচকৈড়ের নন্দকুজা নদীর তীরে জব্দকৃত সব জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন গুরুদাসপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল ইসলাম। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা, থানা পুলিশের সদস্য এবং ভূমি ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
চলনবিল ও আশপাশের নদ-নদীতে অবৈধ সৌতি জাল, কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার দেশীয় মাছের প্রজনন, পোনা মাছের বেঁচে থাকা এবং জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। এ কারণে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল ইসলাম বলেন, চলনবিলের মৎস্যসম্পদ ও দেশীয় মাছের প্রজনন রক্ষায় অবৈধ সৌতি জাল, কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি জেলেদের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থেকে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
